বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ আশুগঞ্জ শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বাবুল সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:বন্ধ পাটকল চালু এবং গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন, ন্যায্য মজুরি ও রেশনিং চালুর দাবি পাটকলসহ বন্ধ রাষ্ট্রীয় সকল কলকারখানা চালু, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন ও শ্রমবিধি প্রণয়ন, বাঁচার মত ন্যায্য মজুরি এবং করোনায় চাকরিচ্যূত-কর্মহীন শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কাজ, খাদ্য, চিকিৎসার ব্যবস্থা, নিত্যপণ্যের উর্দ্ধগতি রোধ ও পূর্ণাঙ্গ রেশনিংয়ের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ আশুগঞ্জ শাখার উদ্যোগে পোড়া গুদাম প্রতাব ভবনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে (২৯ সেপ্টেম্বর)মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ আশুগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক আব্দুল হেকিম এর সভাপতিত্ব ও মো.তানসেন আহম্মেদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপকি ইদন মিয়া মিন্টু,পরিবেশক শ্রমিক সংগঠনের নেতা জুয়েল মিয়া,রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক মো.আনোয়ার হোসেন,সদস্য সচিব মিজানুর রহমান, সদস্য মো.বাছির মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.ফরিদ মিয়া, অলেছ মিয়া, জহিরুল ইসরাম, প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে দেশের উৎপাদন আর অর্থনীতি সচল রেখেছে যে শ্রমিকরা করোনা দূর্যোগের কারণে সেই শ্রমিক ও শ্রমজীবী-জনতাই সবচেয়ে কঠিন অবস্থা পার করছেন। করোনার কারণে নৌ-যানসহ পরিবহণ শ্রমিক, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, করাতকল, চাতাল, দর্জি, লোকাল গার্মেন্টস, নির্মাণ, পাদুকা, মুদ্রণ, পুস্তক বাঁধাই, স্বর্ণশিল্পী, ক্ষৌরকার, বারকি, হকার, রিকশা-ঠেলা-ভ্যান শ্রমিক, দিনমজুর, গৃহকর্মীসহ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা চরম দূর্দশায় মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

করোনা দূর্যোগে হোটেল-রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল এবং এখনও অনেক অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের কর্মজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শ্রমিকদের এই দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে না কোন মালিক তাদের সহায়তা করছে,না তারা পাচ্ছে সরকারি সহায়তা। উপরন্তু সম্প্রতি কিছু সংখ্যক হোটেল রেস্টুরেন্ট খুললেও অধিকাংশ শ্রমিককে এখনও কাজে নেওয়া হয়নি।সমাবেশ থেকে নৌ-যান শ্রমিকদের খাদ্য ভাতাসহ ১১ দফা দাবিতে চলামান আন্দোলন,

ন্যায্য মজুরি ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে হোটেল শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলন, ছাঁটাই-নির্যাতন ও লে-অফের বিরুদ্ধে গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন,চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ভূমির অধিকারসহ ১১ দফা দাবির প্রতি সমর্থন ও একাত্মতা প্রকাশ করা হয় এবং পাটকলসহ বন্ধ রাষ্ট্রীয় সকল কলকারখানা চালু, বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতিপূর্ণ জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন ও শ্রমবিধি প্রণয়ন,

কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং করোনায় চাকরিচ্যূত কর্মহীন শ্রমিকদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কাজ,খাদ্য,চিকিৎসার ব্যবস্থা, প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা,নিত্যপণ্যের উদ্ধগতি রোধ ও পূর্ণাঙ্গ রেশনিংয়ের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার জন্য আহ্বান জানান।