বাংলাদেশের অনীহায় হতাশ পাকিস্তানের কোচ-অধিনায়ক

বাংলাদেশকে এবার একপ্রকার হুমকিই দিয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান এহসান মানি। আসন্ন টেস্ট সিরিজ খেলতে হবে পাকিস্তানেই এমন হুঁশিয়ারি জানিয়েছেন তিনি।

দীর্ঘ দশ বছরের ক্ষত কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে পাকিস্তান। ঘরের মাঠে টুকটাক সিরিজ আয়োজনও করছে সফলভাবে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ আর টেস্ট সিরিজও সম্পন্ন করেছে সফলভাবে।শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানে এসে খেলে গেলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টেস্ট নয়, শুধু টি-টোয়েন্টি সিরিজটাই খেলবে পাকিস্তানে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে নড়েচড়ে বসেছে পাকিস্তানের ক্রিকেট বোর্ড। দফায় দফায় সভা, সিদ্ধান্ত দিয়ে যাচ্ছে পিসিবি। বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তে নাখোশ পিসিবির কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত সাবেক, বর্তমান ক্রিকেটাররা। কারণ এফটিপি অনুযায়ী জানুয়ারির শেষে পাকিস্তানে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও দুটি টেস্ট খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের।

টেস্ট সিরিজ খেলতে না দেয়ার কারণ হিসেবে বিসিবি জানিয়েছে তারা বাংলাদেশ দলের লম্বা সময় পাকিস্তানে অবস্থানের বিপক্ষে। কারণ এর আগে কোনো দলই লম্বা সময় সেখানে অবস্থান করেনি। শ্রীলঙ্কা সেখানে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট সিরিজ খেলছে কিন্তু টি টোয়েন্টি সিরিজে লঙ্কানরা তাদের সেরা দল পাঠায়নি।

আজই বিসিবির এমন সিদ্ধান্তকে পাকিস্তানের প্রতি অবিচার বলেছিলেন পাকিস্তানের হেড কোচ ও নির্বাচক মিসবা উল হক। কারণ তিনি বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্তের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন তিনি। বরং বিসিবির টেস্ট না খেলতে চাওয়ার কারণকে আখ্যা দিয়েছেন খোঁড়া যুক্তি হিসেবে। মিসবার এমন ক্ষোভ প্রকাশের দিনে পিসিবি সভাপতি এহসান মানি জানিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের ম্যাচগুলো কেবল পাকিস্তানেই অনুষ্ঠিত হবে। শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিপক্ষ যে দলই হোক, নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আর কোনও খেলা নয়।

বাংলাদেশ কিংবা অন্য যেকোনো দলের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচগুলো এখন থেকে পাকিস্তানেই অনুষ্ঠিত হবে। আমি এখনো বিশ্বাস করি, বিসিবি এই ব্যাপারটি ভেবে দেখবে এবং বুঝতে পারবে পাকিস্তানের সফর না করার মতো কোনো কারণ নেই।

পাকিস্তান-বাংলাদেশ সিরিজ দুই দলই এখন বিপরীত মেরুতে। বিসিবি যদি তাদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে তবে এই সিরিজ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যদিকে এই সিরিজ বাতিল বড় ক্ষতির মুখোমুখি হবে পাকিস্তানও। কারণ বাংলাদেশের বিপক্ষে সাদা পোশাকে মাঠে নামা না হলে ২০২০ সালের গ্রীষ্মের আগে আর টেস্ট ম্যাচ পাবে না পাকিস্তান।