বর্ষা মৌসুমে দুটি কাপড় নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে হয় শিক্ষার্থীদের, নিজামপুরে গ্রামীন সড়কের বেহাল দশা

জসিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের কুলতলা মোড় হইতে মূল সড়কের সাথে একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম ও গ্রামবাসী যাতায়াতের গ্রামীন সড়কটিতে বহু বছর ধরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। উল্টে বেড়েছে চরম দুর্ভোগ৷ নিশ্চিন্তপুর গ্রামে অনুমানিক ৫ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র এই সড়ক দিয়ে চলাচলে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত রাস্তার কাজ হবে বললেও দিন মাস বছর পেরিয়ে গেলেও সড়কের উন্নয়নের কাজের দিকে কারোরই নজর থাকেনা বলে গ্রামবাসী জানান। এ রাস্তা দিয়ে গ্রামের শিক্ষার্থীরা বর্ষা মৌসুমে দুটি কাপড় নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসতে হয়। একটি কাপড় কাঁদায় নষ্ট হয়ে যায় আরেকটি কাপড় পড়ে বিদ্যালয়ে ক্লাস করেন শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এই মাটির রাস্তাটি আরো বেশি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাটি কাদার কারণে প্রতিদিন যাতায়াতে কষ্ট হয় সাধারন জনতার। একটু বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা হয়। বিশেষ করে বৈশাখ মাসে ধান তোলার সময় গাড়ী দূর্ঘটনার শিকার হয় কৃষকেরা। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা সহ উচ্চ বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে এ সড়ক দিয়ে।

নিশ্চিন্তপুর গ্রামবাসী সেলিম রেজা জানান, আমাদের গ্রামের মূল সড়ক এটা হলেও উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া পায়নি। এগুলো সংস্কারে এবং নাগরিক সুবিধা দিতে সরকারের কাছ থেকে যে সহযোগিতা প্রয়োজন, তা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের গ্রামবাসীর। গত নির্বাচনের পর এই রাস্তাটিতে কাজ হবার কথা থাকলে ও হয়নি। গ্রামবাসীরা আক্ষেপ করে বলেন আমরা সকল উন্নয়নের নজরের বাইরে পড়ে যাচ্ছি মনে হয়৷ এ ব্যাপারে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আব্দুল জলিল পেশায় একজন শিক্ষক তিনি আমাদের মুঠো ফোন জানান, আমি শুধু আজ নয় এর আগে এই সড়কটির উন্নয়নের জন্য অধীক বার দরখাস্ত লিখেছি৷ আমি এখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছি দরখাস্ত লিখতে লিখতে৷

কিন্তু তাতেও বিন্দু পরিমাণ উন্নয়নের ছোঁয়া এই সড়কে পড়েনি৷ নির্বাচন আসলেই জন প্রতিনিধিরা আমাদের বলে এবার নির্বাচনের পর কাজ করবো৷ কিন্তু নির্বাচনের পরে আর তাদের দেখা মিলে না ৷ তাছাড়া তিনি তার ব্যক্তিগত আইডিতেও অতি দুঃখের সাথে রাস্তাটির কথা তুলে ধরেন৷ তাই বর্তমান শিক্ষক আব্দুল জলিলের মতো আরো অনেকে বলে আমাদের সকলের কাছে জোর দাবি এই গ্রামবাসীর কথা উন্নয়নের কথা চিন্তা করে হলেও যেন সড়কটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া পায়৷ তাতে প্রায় ৫ হাজার মানুষ উপকৃত হবে৷ নিশ্চিন্তপুর গ্রামের অধিকাংশ বয়স্ক ব্যক্তিরা জানান, হালকা বৃষ্টি হলেই আমরা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে পারি না৷

রাতের বেলা এশার নামাজ মসজিদে পড়তে যেতে পারি না৷ আমরা খুবই কষ্টের মধ্যে আছি দীর্ঘদিন ধরে। নিশ্চিন্তপুর রাস্তা নিয়ে নিজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ আমাদের প্রতিনিধিকে মুঠোফোনে জানান, উপজেলা থেকে আমি সড়কটির উন্নয়ন বাবদ ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। অতি দ্রুত কাজ শুরু হবে৷ বর্তমান বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করতে পারছি না৷ এছাড়া এই ইউনিয়নে আরো কিছু কাজের আমি বরাদ্দ পেয়েছি। খুব শ্রীঘই সব কাজ শুরু করবো৷