বরিশালে পিতা-পুত্রকে খুন; তিন ঘাতকের স্বীকারোক্তি

প্রিন্স তালুকদার, বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের চর লক্ষীপাশার পান্ডব নদী ও পাশ্ববর্তী নদীর তীর সংলগ্ম ঝোঁপের ভিতর থেকে ১৬ ঘন্টার ব্যবধানে পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কলার দোঁয়ানি গ্রামের বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র চাই ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন হাওলাদার(৫৫) ও পুত্র ইয়াসিন হাওলাদার (২০) এর লাশ উদ্ধারের পাশাপাশী পিতা-পুত্রের হত্যাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা সহ লুন্ঠন করে নেওয়া ইঞ্জিন চালিত ট্রলার ও মোবাইল, রক্তমাখা কাপড়-চোপড়সহ তিন হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

আটককৃতরা হচ্ছে- মোঃ বাদশা হাওলাদার (৩৮) পিং মৃত জয়নাল হাওলাদার, সাং দুবার চর (২) মোঃ শাহীন খাঁ (২৫), পিতা মোঃ সবুজ খাঁ ও মোঃ ছানির হাওলাদার (১৭), পিতা আমির হোসেন হাওলাদার। উভয়ের ঠিকানা বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জের গোমা। এদের মধ্যে ১ নং হত্যাকারী বাদশার বিরুদ্ধে বাকেরগঞ্জ থানায় দস্যুতা, চুরি সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১ টায় বরিশাল পুলিশ লাইনস্থ ইন সার্ভিস টেনিং সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে পিতা ও পুত্রের হত্যাকারী ঘাতকদের পরিচয়সহ তাদের কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরেন বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম (পিপিএম বিপিএম)।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নইমুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরদার ফরহাদ হেসেন ও বাকেরগঞ্জ এসপি সার্কেল আনোয়ার সাঈদ প্রমুখ। এসময় পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাতনামা গলাকাটা লাশ পড়ে আছে এ সংবাদ পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝোঁপের ভিতর থেকে লাশ উদ্ধার করে। এবং পরের দিন সকাল ৮ টায় নদীতে ভাসমান লাশ দেখা যাচ্ছে। পরে পুলিশ গিয়ে সেই বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং এক পর্যায়ে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়।

আসামীরা স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, হত্যাকান্ডের ৪/৫দিন আগে থেকেই তাদের উপর নজর রাখে ঘটনার দিন ৬০ পিস চাই কেনার কথা বলে এবং চাইগুলো তাদের এলাকায় পৌঁছে দেবার অনুরোধ করে। পূর্ব থেকেই পরিকল্পনা মাফিক বাদশা শাহীন ও সানি ট্রলারে উঠে এবং চর লক্ষীপাশা নামকস্থানে থামিয়ে চাইগুলো নামাতে বলে। অপরদিকে ইয়াসিনকে টাকা দেবার কথা বলে সানি ও শাহীন একটু দুরে বাগানে নিয়ে যাবার সময় পিছন থেকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে ফেলে অন্য দু’জন হাত পা চেপে ধরে হত্যা নিশ্চিত করে।

এই হত্যাকারীরা নদীর তীরে এসে বৃদ্ধ হেলাল উদ্দিনকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দিয়ে ছুরি পেটের দু’পাশে ছুরি বসিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পানিতে ডুবিয়ে দিয়ে আসামীরা ভিকটিমের সাথে থাকা ৩৫০০ টাকা, ১টি মোবাইল, ট্রলার ও পড়নের কাপড়-চোপড় নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায়। অপরদিকে লাশ উদ্ধারের পরপরই আমরা তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ৬ ই জুলাই ঢাকার সদরঘাট এলাকার তেলঘাট নামকস্থান থেকে ঘাতক তিনজনকে গ্রেফতার করাসহ ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়।