বরিশালের বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত সন্যামত মাথা গোজার ঠাই খুঁজছেন

প্রিন্স তালুকদার, বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে পাশ কাটিয়ে অন্য ব্যাক্তিকে ঘর পাইয়ে দেবার জন্য উঠে পরে লেগেছে একটি চক্র।

এ চক্রের প্রধান হোতা একটি বাড়ি একটি খামারের ফরিদপুরের সুপার ভাইজার জহিরুল হক। জহিরুলের বাড়ি জিরাইল গ্রামে। অথচ এই জহিরুল ভাতশালা গ্রামের একাধিক ব্যাক্তির কাছথেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পশ্চিম ভাতশালা গ্রামের মৃত মান্নান সন্যামতের পুত্র মিজানুর রহমানের নামে ঘর পাইয়ে দেবার নামে টাকা গ্রহন করে জহিরুল।

মিজানুর, হুমাউন কবির, হেমায়েত এবং কামরুল এরা ৪ ভাই।প্রত্যেকের সেমি পাকা ঘর রয়েছে। মান্নান সন্যামতের স্ত্রী গোলেনুর বেগম স্বাস্হ্য বিভাগ এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গ্রহন করে প্রতিমাসে। যা কিনা বিধি বহির্ভুত। ভাতশালা গ্রামের শওকত আলী সন্যামত দক্ষিন বংগের বীর মুক্তিযোদ্ধা। সততার কারনে বরিশাল জেলা প্রশাসক আলাউদদিন আহমেদ সনদ এবং ক্রেষ্ট প্রদান করেন। শওকত আলী সন্যামত স্বাধীনতার পর ১৬ কেজি স্বর্ন এবং ২৯ কেজি রৌপ্য ট্রেজারীতে জমা দেন।

সততার কারনে তিনি নিজের বাড়ি করতে পারেন নি। তার এক মাত্র জামাতা নলছিটি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ সন্যামত ঘর তুলে দেন।এ সময় ফরিদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মীর মোঃ মহসীন ৪০ বস্তা সিমেন্ট প্রদান করেন। শওকত আলী সন্যামতের কন্যা শাহনাজ, পুত্র শামীম এবং নাইম তার পিতার কর্মকান্ড সাংবাদিকের কাছে তুলে ধরেন।

সেচ্ছাসেবক লীগ বাকেরগন্জ উপজেলার সহ সভাপতি জাকির সন্যামত বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী সন্যামতকে এবং তার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করে যারা এই ঘৃনীত কাজটি করছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক। জাকির সন্যামত অবিলম্বে প্রধান মন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী ঘর আছে জমি নাই প্রকল্পে শওকত আলী সন্যামতের পরিবারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবী জানান।

শওকত আলী সন‍্যামতের ঘরেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনারা, তাদের অস্ত্র ভান্ডার ছিল এই ঘর।এখান থেকেই যোদ্ধারা বাউফল উপজেলা হানাদার মুক্ত করে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই ঘরটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ভেঙে গেলে তাহার একমাত্র জামাতা,মীর মহসীন সহ অন্যান্য নিকট জনের সহযোগিতায় ঘরটি দার করানো হয়। তার নিম্ন আয়ের চার সন্তান বিবাহিত। প্রত‍্যেকের রয়েছে একাধিক সন্তান। মাথা গোঁজার ঠাঁই টুকু ছাড়া সবই বিক্রি করে মুক্তি যোদ্ধাদের ভরন পোষন করেন।
এমতাবস্থায় শেষ জীবনে সন্তানদের মাথা গোঁজার ঠাঁই এর জন্য রাষ্ট্রীয় সাহায্য চান তাহার বৃদ্ধা স্ত্রী।

এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহনের জন্য বাকেরগন্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাধবী রায় এবং সহকারী কমিশনার (ভুমি) তরিকুল ইসলাম উজ্জলের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।