বরিশালের করোনা ইউনিটের পাশে ফেলা হচ্ছে রোগীদের ব্যবহৃত পিপিই সহ অন্যান্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র; বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুকি

প্রিন্স তালুকদার, বরিশাল প্রতিনিধি: করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতার স্বরুপ গোটা বিশ্বের সবারই জানা হয়ে গেছে। রোগটির প্রাদুর্ভাবের সূচনালগ্ন থেকে শুরু করে এখনো প্রযন্ত বিশ্বের বাঘাবাঘা দেশ কিংবা এলিট শ্রেণীর ব্যাক্তিরাও আছে চরম আতঙ্কে! রোগটির বিস্তার ঠেকানো না গেলেও সময়ের পরিক্রমায় জনমনে হয়তোবা কিছুটা সাহসের সঞ্চার হয়েছে বলে পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে ধারনা করা যায়। তবে প্রতিদিনের আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার বিবেচনায় এটা স্পষ্ট যে, করোনা মোটেও দূর্বল হয়নি।

মূলতঃ দূর্বল হয়েছে মানুষের সচেতনতা! কিন্তু সাধারণ মানুষ অসচেতন হলে সেটা হয়তোবা কিছুটা মেনে নেয়া যায়, তবে দায়িত্বশীল কেউ কান্ড-জ্ঞানহীন কাজ করলে সেটা সাধারণের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়। করোনা মহামারীর এই চলমান সময়ে স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ত্ব জ্ঞানহীনদের কর্মকান্ডের কারনে বরিশালের করোনা ইউনিটের আশেপাশে বসবাসরত ও চলাচলরত সাধারন মানুষ এবং রোগী কিংবা তাদের স্বজনরা রয়েছে করোনা ঝুঁকির সর্বোচ্চ সীমায়।

বরিশালের করোনা ইউনিটের পাশে সম্পুর্ণ অরক্ষিতভাবে ফেলা হচ্ছে রোগীদের ব্যবহৃত (পিপিই) সহ অন্যান্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র। ফলে এর মাধ্যমে ব্যপক বিস্তার ঘটতে পারে স্বরনকালের সবচাইতে ভয়াবহ এই মহামারী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় করোনা ইউনিট লাগোয়া ভবনটির দক্ষিণপাশে মূল সড়কের পাশেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে এসব ব্যবহার্য জিনিসপত্র। যার মধ্যে ভবঘুরে মানুষজন ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের বোতল সহ অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙ্গারীর দোকানে বিক্রি করছে।

এছাড়াও করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকবার খোদ হাসপাতালের কর্মীরা সম্পুর্ন অরক্ষিতভাবে রোগী ও ডাক্তারদের ব্যবহুত পিপিই ও অন্যান্য উপকরন পুড়িয়ে দিয়েছিলো, ফলে দূষিত বাতাসে ছড়িয়ে পরে করোনা ছাড়াও অন্যান্য রোগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকায় বসাবসরত ও ব্যাবসায়ীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন,একজন ব্যাবসায়ী জানান তারা অচিরেই হাসপাতাল পরিচালকের নিকট লিখিত অভিযোগ দিবেন।

বিষয়টি নিয়ে বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মনোয়ার হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,এই বিষয়টি তার এখতিয়ার ভুক্ত নয়,বরং তিনি শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেনের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।

তবে শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেন।