বন্যায় ৩হাজার ৯শ ৮৪.৫ হেক্টর জমির পাটের ক্ষতি

জাফরুল সাদিক,সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার সারিয়াকান্দির চাষীরা এখন পাট ধোঁয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। শুকানোর পর বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়ায় চাষীদের মুখে হাসি দেখা দিয়েছে।বন্যার কারণে অধিকাংশ পাট পানিতে নষ্ট হয়েছে। অর্ধেকের ও বেশি পাট চাষীদের পাট নষ্ট হওয়া তাদের মাথায় হাত পরেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস ও স্থানীয় পাট চাষীদের সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় মোট ৭ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ করা হয়েছে। বন্যায় ৩হাজার ৯শ ৮৪.৫ হেক্টর জমির পাটের ক্ষতি হয়েছে। চৈত্র মাসের প্রথম দিকে এ এলাকার চাষীরা পাট চাষ করে থাকেন।

বিশেষ করে পাটের জমিতে পরবর্তী ফসল মরিচ চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়ায় এজন্য চাষীরা অধিক হারে পাট চাষ করে থাকেন। তবে মৌসুম শুরুতে বীজের চড়া দাম ও খড়ার কারণে চাষীদের ফসলটিতে ধাক্কা খেতে হয়। তবে অনেকেই সেচ দিয়ে পাটের ফসল বাঁচিয়ে রাখেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে যমুনা ও বাঙ্গালী নদীতে পানি বৃদ্ধির সংগে সংগে অবস্থা বুঝে চাষীরা পাট কর্তনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।প্রতি হেক্টর জমিতে এবার গড় ফলন হয়েছে ২.৪টন। পাট কর্তন করে জাগ দেয়ার পর কৃষকরা তা ধোঁয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছে। পাট চাষীরা বন্যার কারণে ঘরের চালায়, বাঁধে বাঁশের লম্বা আড় তৈরি করে দিন রাত তা শুকানোর কাজ করছেন। পাট শুকানোর সময় আকাশে মেঘ দেখলেই ভেজার হাত থেকে রক্ষা করতে দৌড় ঝাঁপ অন্যদিকে শুকনা পাট ঘরে তুলতে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে, যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের। ভালো ভাবে পাট শুকানোর পর বিক্রির জন্য হাটে তুলছেন চাষীরা। তবে দাম ভালো থাকায় চাষীরা দারুণ খুশিতে রয়েছেন। খরচ বাদে প্রতি বিঘায় তাদের কমপক্ষে লাভ থাকছে ৭/৮ হাজার টাকা।

পারদেবডাঙ্গা গ্রামের দৌলতজামান, সরাফত আলী, নবাব আলী, আব্দুল করিম ও চরবাটির পাট চাষী মোখলেছার রহমান আমাদেরকে জানান, পাট ধোঁয়ার পর শুকনো পাট বাজারে ১৮’শ থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা মন দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। অর্থাৎ বাজারে এবার পাটের দাম খুবই ভালো। প্রতি বিঘায় পাট চাষে সবমিলিয়ে খরচ পড়ে ৮/৯ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয় প্রতি বিঘায় কমপক্ষে ৭/৮ মন করে। বর্তমানে বাজার দর হিসেবে বিক্রি করে ভালো লাভ থাকছে। এছাড়াও প্রতি বিঘায় পাট খড়ি বিক্রি করে বাড়তি টাকা পাওয়া যায় ৩/৪ হাজার।

এব্যাপারে সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আব্দুল হালিম জানান,প্রতিবারের তুলনায় এবার পাটের ফল ভাল হয়েছিল।বন্যার কারনে ৩হাজার ৯শ ৮৪.৫ হেক্টর জমির পাটের ক্ষতি হয়েছে।যারা বন্যার আগে পাট কর্তন করেছে বর্তমানে বাজারে ক্রেতা ও মূল্য ভালো হওয়ায় পাট চাষীরা খুশিতে রয়েছেন।