বন্যায় বিপযর্স্ত নাটোরের সিংড়া ও নলডাঙ্গার জনজীবন

সাজেদুর রহমান, নাটোর প্রতিনিধি: অতিরিক্ত বৃষ্টি ও প্রবল বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নাটোরের সিংড়া ও নলডাঙ্গা উপজেলার জনজীবন। চারদিকি যেদিকে চোখ যাবে,চোখে পরবে শুধু পানি আর পানি। বাড়িঘর ,বসতবাড়ি রাস্তাঘাট , সবই প্রায় পানির অনেকটা নিচে তলিয়ে গেছে। এমন অবস্থায় আশ্রয় কেন্দ্রে ভীড় জমেছে মানুষের। দোকানপাট সব কোমর পানিতে ডুবে থাকায় দেখা দিয়েছে নিত্যপ্রয়োনীয় জিনিস পত্রের টানাপোড়ন। নলডাঙ্গা উপজেলার সিমান্তবর্তী গ্রাম সড়কুতিয়া – যে গ্রামের বার আনা পরিবার এখন চরমভাবে বিপাকে পরেছে।যদিও কারো কারো বাড়ি এখনও শুকনো ডাঙায় থাকলেও বাড়ি থেকে বের হতে চাইলে ভাঙতে হচ্ছে বুক পানি। পৌরসভা ও ইউনিয়ন গুলোতে বন্যার পানি ঢোকার কারণে,কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে এবং রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে ভেঙ্গে যাচ্ছে।

অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উঁচু জায়গাতে। ঝুঁকিতে রয়েছে বারনই ও আত্রাই নদীর বাঁধের অনেক পয়েন্ট, যদিও এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলেছে কিন্তু পানি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকির মধ্যে আছে বাঁধ। সিংড়ায় আত্রাই নদীর পানি ৮৮এর বন্যার সিমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে।সমস্ত ফসলী জমি পানির নীচে।গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও বাঁধ যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।এলাকাবাসীর দাবি এখন কোনো ধরনের ভারী যানবাহন যেনো চলতে না দেওয়া হয়। সেই সাথে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের আবেদন জানান তারা। উপজেলা শহরের সাথে যোগাযোগ প্রায় বিছিন্ন হয়ে পড়েছে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর।

ক্ষতিগ্রস্থের তালিকা তৈরী করছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। সরেজমিনে দুর্গত উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে। উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নের গ্রামের অধিকাংশ পরিবার এখন বন্যার পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে। ডুবে গেছে অসংখ্য ফসলি জমি, ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। বুক পানি ভেঙ্গে বাড়ির বাইরে যেতে হচ্ছে কমবেশী সবাই’কে- হয়তো অনেকের ঘরে খাবার নেই এখন – অনেকের ঘরে চাল-ডাল থাকলেও চুলোতে পানি জমে আছে – হয়তোবা কারো ঘরে চাল আছে, অথচ উনুন জ্বালানোর দিয়াশলাই নেই – হয়তো কেউ অভুক্ত’ও থাকতে পারেন। দেখা দিচ্ছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। এদিকে বন্যা পরিস্থিতিতে উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে জরুরি হেল্প লাইন খোলা হয়েছে এবং বন্যা দূর্গতদের পাশ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল,কলেজ, মাদ্রাসায় আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার নলডাঙ্গা উপজেলার বন্যা দূর্গত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক( সার্বিক) নাদিম সারোয়ার। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল- মামুন সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ। বন্যায় সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন বৃদ্ধ, শিশু,নারী,প্রতিবন্ধী, এবং অসুস্থ মানুষরা। গবাদি পশু পাখি ও আছে চরম খাদ্য সংকটে।

পাটুল হাপানিয়া স্কুল এন্ড কলেজ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ফরিদা বেগম ( ৪০) বলেন, আমার বাড়ি পুরোটাই ডুবে গেছে এর আগেও দীর্ঘদিন আশ্রয় কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে না জানি এবার আর কতদিন থাকতে হবে। বাঁশভাগের এরশাদ আলী(৬০) বলেন এত পানি ১৯৮৮ সালের বন্যায় ও দেখিনি আমি। নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলার প্রতিটি গ্রামে ঘুরে ঘুরে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে ও পাশাপাশি বানভাসিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ’সহ তাদের’কে নিরাপদ আশ্রায়ে নেওয়ার কাজ’চলছে । তিনি আর’ও বলেন – যতদিন না বন্যার এই দুঃসময় কাটিয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারছে ততদিন সরকারের তরফ থেকে ত্রাণ কার্যক্রম চালু থাকবে।