বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি, আসছে এমন কিছু বাংলা সিনেমা

মুক্তির প্রহর গুনছে কিছু সিনেমা, চলছে কিছু সিনেমার কাজ। এই সিনেমাগুলোর কাঁধে চড়ে বদলে যেতে পারে বাংলা সিনেমার চেহারা! উৎসবমুখর হয়ে উঠতে পারে প্রেক্ষাগৃহগুলো। শুধু অপেক্ষা কবে থেকে খুলবে প্রেক্ষাগৃহ!

করোনা মহামারীর দখল কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বিশ্ব। খুলে দেওয়া হয়েছে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলো। সরগরম হয়ে উঠছে সিনেমা বাজার। বিশ্বের অনেকে দেশে সিনেমা হল খুলে দেওয়া হয়েছে। করোনার উৎসস্থল চীনেও মাস দুয়েক হবে সিনেমা হল খুলে দেওয়া হয়েছে। কিছূ সিনেমা রিরিলিজ দিয়ে বক্স অফিসে তৈরি হয়েছে রেকর্ড। আমাদের দেশে এখনো সিনেমা হল খুলে দেওয় হয়নি, সামজিক দূরত্ব বজায় রেখে শুটিং হচ্ছে। গত সপ্তাহে শুরু হয়েছে মঞ্চ নাটক।

দুই দশক ধরে অসুস্থ বাংলা সিনেমা। চলছে ধুঁকে ধুঁকে। দিন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো। দিন দিন কমছে হল সংখ্যা। শঙ্কায় নির্মাতা-লগ্নিকারকরা। তাহলে কি আর ঘুরে দাঁড়াবে না বিনোদনের সবোর্চ্চ মাধ্যম সিনেমা! এর মধ্যেই বাজে খবর। ভাড়া না দিতে পেরে দেশের প্রথম ও সবচেয়ে জনপ্রিয় স্টার সিনেপ্লেক্স গুটিয়ে যাচ্ছে। হচ্ছেটা কি? তবে কি ফিরবে না বাংলা সিনেমার সুদিন?

সিনেমা পাড়ার হতাশার মধ্যে আশার কথা হল- বড় পরিসরের বেশ কিছু সিনেমা আসছে; যেই সিনেমাগুলো হল বিমুখ বাংলা সিনেমার দর্শককে টানতে পারে প্রেক্ষাগৃহে। চলতি বছরেই কিছু বিগ বাজাটের সময় উপযোগী সিনেমা মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার জন্য তাও পিছিয়ে গেল। তবে প্রেক্ষাগৃহ উন্মুক্ত হলেই আসবে বহু প্রতীক্ষিত কিছু সিনেমা। যে সিনেমাগুলো বদলে দিতে পারে বাংলা সিনেমার অন্ধকারাচ্ছন্ন অধ্যায়। এখন শুধু অপেক্ষা- কবে সিনেমা হল খোলার সরকারী অনুমতির।

যে সিনেমা গুলোর অপেক্ষা:

১.শনিবার বিকেল-পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমা শুটিংয়ের শুরু থেকে আলোচিত। দেশের গুণী ও জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি এই সিনেমায় বিশ্বের নামকরা তারকারাও যুক্ত হয়েছেন। একেবারে গোপনে শুটিং করার কারণে এই সিনেমা নিয়ে উৎসুক মানুষের আগ্রহও বাড়ে। কেউ বলছেন, সিনেমাটি হোলি আর্টিজান ঘটনার পটভূমিতে নির্মিত। সেন্সর ছাড়পত্রের জন্য জমা দেওয়ার পর যাঁরাই সিনেমাটি দেখেছেন, তাঁদের অনেকে এই ধরনের মতও দিয়েছেন। কেউ বলছেন আটকে দেওয়া হয়েছে। কেউ-বা বলছেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

২০১৮ সালের  ২১ ফেব্রুয়ারি এক সন্ধ্যায় ফারুকী এ বিষয়ে বলেছিলেন, ‘এটা হোলি আর্টিজান ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত, কিন্তু সেই ঘটনার হুবহু পুননির্মাণ না। চরিত্রেরাও আলাদা।’

তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে অচিরেই আলোর মুখ দেখলে ‘শনিবার বিকেল’ বা ‘স্যাটারডে আফটারনুন’ দেখার জন্যে হলমুখী হতে পারে বাঙালী দর্শক। এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান, পরমব্রত, তিশা সহ আরো অনেকে।

২. বিউটি সার্কাস– অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না। সেই ২০১৬ সাল থেকে মাহমুদ দিদার পরিচালিত, বিউটিকুইন জয়া আহসান অভিনীত বিউটি সার্কাস সিনেমার জন্য অপেক্ষায় সিনেমাপ্র্রেমি দর্শকরা। বছরের শুরুতে ফাস্ট লুক টিজার অবমুক্ত করে জানানো হয়েছে এবার প্রস্তুত বিউটি সার্কাস। মুক্তির সম্ভাব্য তারিখও ঘোষণা করা হয়েছিল। চলতি বছরের বৈশাখে মুক্তি পাওয়া কথা ছিল কিন্তু করোনার জন্য হল না। তবে করোনা পরবর্তীতে বিউটি সার্কাস মুক্তি পেলে হলগুলো উপচে পড়া দর্শকের চাপে আনন্দমুখিরত হয়ে উঠতে পারে।

সার্কাসকে কেন্দ্র করে এক নারীর টিকে থাকার গল্প ‘বিউটি সার্কাস’। সার্কাস আক্রান্ত হওয়ার পরও গণমানুষের পক্ষ নিয়ে হুমকির মুখেও একজন নারীর আপন শক্তিতে টিকে থাকার গল্প ফুটে উঠবে চলচ্চিত্রটিতে। তারকাবহুল চলচ্চিত্রটিতে জয়া আহসানের পাশাপাশি ফেরদৌস, এবিএম সুমন, তৌকির আহমেদ, শতাব্দি ওয়াদুদ সহ শখানেক অভিনয় শিল্পীকে দেখা যাবে।

৩. এ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন– করোনার কারণে ‘এ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবিটির কাজ শেষ হয়নি। লকডাউনের কারণে টানা ২০ দিন লঞ্চে জলে ভাসতে হয়েছিল পুরো ইউনিটকে। এ দলে ছিলেন পরিচালক আবু রায়হান জুয়েল, চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ, নায়িকা পরীমনিসহ ১২০ সদস্য। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারী অনুদানে লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে ‘এ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবিটি। শিশুতোষ এই সিনেমা নিয়ে আছে দশর্কমহলে আলোচনা।

৪. মিশন এক্সট্রিম– ঈদুল ফিতরে মুক্তির কথা ছিল মিশন এক্সট্রিম সিনেমাটি। কিন্তু করোনার কারনে মুক্তি পেছাতে হচ্ছে বলে সিনেমাটির অন্যতম পরিচালক, প্রযোজক এবং কাহিনিকার সানী সানোয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ‘মিশন এক্সট্রিম’ মুক্তি পাবে না বলে তিনি জানিয়েছিলেন।

মিশন এক্সট্রিম’ সিনেমাটি পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট তথা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ‘সিটিটিসি’র কিছু শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে। গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন সানী সানোয়ার নিজেই। সিনেমাটির সহযোগী প্রযোজক হিসেবে রয়েছে মাইম মাল্টিমিডিয়া ও ঢাকা ডিটেকটিভ ক্লাব।

পুলিশ অ্যাকশন থ্রিলার সিনেমা ‘মিশন এক্সট্রিম’ পরিচালনা করেছেন সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমদে। কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন আরেফিন শুভ, জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, সাদিয়া নাবিলা ও তাসকিন রহমান।

৫.মাসুদ রানা এমআর ৯– কাজী আনোয়ার হোসেনের আইকনিক গোয়েন্দা চরিত্র ‌‘মাসুদ রানা’ আসিফ আকবরের পরিচালনায় নাম ভূমিকায় থাকছেন এবিএম সুমন। তার বিপরীতে আছেন আরেক নবাগতা সৈয়দা তৌহিদা হক অমনি। এই সিরিজের জন্য সেবা প্রকাশনী ও কাজী আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ‘ধ্বংস পাহাড়’সহ ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের তিনটি উপন্যাসের কপিরাইট নিয়েছে জাজ। মার্চেই এ ছবির শুটিং হতো।

৬. অপারেশন সুন্দরবন-ঢাকা এ্যাটাকের পর পরিচালক  দীপংকর দীপন নির্মাণ করছেন রোমাঞ্চকর  চলচ্চিত্র অপারেশন সুন্দরবন। দীর্ঘদিন এই সিনেমার  মাধ্যমে বড় পর্দায় ফিরছেন এক সময়ের সুপার স্টার রিয়াজ। র‍্যাব ওয়েলফেয়ার কোওপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড-এর অর্থায়নে চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করছে থ্রি হুইলারস লিমিটেড। ছায়াছবিটির কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন নাজিম-উদ-দৌলা ও দীপন নিজেই। ২০১৯ সালের  ডিসেম্বর থেকে সুন্দরবন ও তটবর্তী সাগরে এর চিত্রগ্রহণ শুরু হয়।

কথা ছিল ঈদুল আযহায় সিনেমাটি মুক্তি পাবার কিন্ত করোনার জন্য এখন সিনেমাটির কিছু অংশের শুটিং বাকি আছে। এই সিনেমায় অভিনয় করছেন সিয়াম আহমেদ, নুসরাত ফারিয়া, জিয়াউল হক রোশান, তাসকিন রহমান, সামিনা বাশার, মনোজ প্রামাণিক, দীপু ইমাম, শেখ এহসানুর রহমানসহ অনেকে।

মুক্তি প্রতীক্ষিত সিনেমার তালিকায় আরো ডজন খানেক বিহ বাজেটের সিনেমা আছে। নবাব এল এল বি, কিং স্টার, আশীর্বাদ ও অন্যান্য। খুলে দিলে সিনমো হল, ছুটে যাবে দর্শক, প্রাণ ফিরে পাবে বাংলা সিনেমা- এমনি আশা সবার।