বঙ্গবন্ধু’র প্রতি গভীর ভালোবাসার বহি:প্রকাশ ঘটালেন নালিতাবাড়ির বাদশা

শেরপুর প্রতিনিধি: বাঙালি জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি প্রকৃত দেশ প্রেম ও গভীর ভালোবাসার বহি:প্রকাশ ঘটালেন এক মুজিব ভক্ত শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার পৌর শহরের গড়কান্দা এলাকার পেশাদার চিত্রকর গোলাম বাদশা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর ভালোবাসার স্থান থেকে বাদশা প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর লগো আঁকার কাজ শুরু করেছেন।

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনে বাঙালি জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর ও প্রকৃত ভালোবাসা জাগাতে এবং এ ভালোবাসার প্রভাব দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার লেক্ষ রং-তুলির ছোয়ার মাধ্যমে এমন অভিনব কৌশল অবলম্ভন করছেন মুজিব পাগল চিত্রকর গোলাম বাদশা, এমনটাই জানালেন বাদশার শুভাকাঙ্খি নালিতাবাড়ির উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আবু ইলিয়াছ সাদ্দাম।

বাদশা বলেন, আওয়ামী লীগ তথা বর্তমান সরকার ঘোষিত মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে নিজ উপজেলা নালিতাবাড়ির ১০০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেওয়ালে আমি বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর লগো আঁকার পরিকল্পনা হাতে নেই। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নালিতাবাড়ি শহরের গড়কান্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেওয়ালে জন্মশতবার্ষিকীর লগো আঁকার মাধ্যমে কাজ শুরু করেছি।
আমার একাজে মুগ্ধ হয়ে অনেকে আমাকে উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়ে যাচ্ছেন। স্বাধীনতার পক্ষের নাগরিকদের উৎসাহ-উদ্দীপনাকে সঙ্গী করে বছরব্যাপী সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জন্মশতবার্ষিকীর লগো আঁকার পরিকল্পনা হাতে নিয়ে এগিয়ে চলছি। তবে সবার আগে নিজ উপজেলা, পরে পর্যায়ক্রমে পাশ্ববর্তী উপজেলা, জেলা, বিভাগসহ সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুরো মুজিব বর্ষজুড়ে মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর লগো নিজ হাতে তুলির ছোঁয়ায় এবং বিনাপারিশ্রমিকে আঁকবেন বলে তিনি জানান।
শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুকে মনেপ্রানে ভালোবেসেই এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন পেশাদার তরুণ চিত্রকর গোলাম বাদশা।
তিনি জানান, ছোট কালে বাবা হারা হওয়ায় বিভিন্ন কারনে তিনি লেখা পড়ায় বেশি দূর যেতে পারেননি। ৮ম শ্রেণি পাশের পরেই তিনি পেটেরদায়ে আয়ের উদ্দেশ্যে নেমে পরেন। কোন পুঁজি না থাকায় সামান্য পুঁজির ব্যবসা চিত্র আঁকার প্রতি ঝুঁকেন তিনি। বর্তমানে নালিতাবাড়ি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে “চিত্রকর বাদশা” নামে একটি ছোট দোকান নিয়ে চিত্র আঁকার কাজ করছেন।
সেখান থেকে যা আয় হয়, তাদিয়ে অতিসাধারন ভাবে সংসার খরচ চালিয়ে, কিছু টাকা বাঁচিয়ে তা দিয়ে বিনাপারিশ্রমিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজ খরচে ও নিজের হাতে তুলির ছোঁয়ায় মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর লগো এঁকে যাচ্ছেন। বাদশা বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকে মনেপ্রাণে ভালোবাসি,
তাঁর প্রতি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে মুজিব বর্ষে সকলের মাঝে বঙ্গবন্ধুর চেতনা জাগিয়ে তোলতে নিজের পেশাগত কাজের ফাঁকে এ কাজকে বেছে নিয়েছি। দেশব্যাপী বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবের ছবি সংবলিত মুজিব বর্ষের লোগো ছড়িয়ে দিতে সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।

বাদশা আরো বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি, শুধু তাঁর কৃতকর্মের খবর, ভিডিও, বই পড়ে যতটুকু জেনেছি; তাতেই তাঁর প্রতি আমি অন্ধভক্ত হয়ে পড়েছি। বঙ্গবন্ধুকে দেখতে না পারলেও, বঙ্গবন্ধুর রক্তে গড়া বঙ্গকন্যা বিশ্ব বরেণ্য নেতা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বশরীরে দেখার আশা নিয়ে দিনাতিপাত করছেন বলে গোলাম বাদশা এ প্রতিবেদককে জানান।