বগুড়ায় শহরের নয়টি রেডজোনে নেই কঠোরতা

নিয়াজ মোর্শেদ নাইম, দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি উপজেলা প্রতিনিধি: বগুড়া পৌরসভার নয়টি এলাকাকে রেডজোন ঘোষণা করে সরকারিভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও সেসব জায়গায় জনসমাগম এবং যান চলাচল বন্ধ হয়নি। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেও মানুষের চলাচল বন্ধ করতে পারছেন না।

জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমদ জানান, রেডজোনে জনসমাগম ও যানবাহন চলাচল বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনে প্রশাসন আরও কঠোর হবে। রেডজোন ঘোষিত এলাকাগুলো হলো– বগুড়া পৌরসভার চেলোপাড়া, নাটাইপাড়া, নারুলী, সুত্রাপুর, মালতিনগর, জলেশ্বরীতলা, হাড়িপাড়া, ঠনঠনিয়া ও কলোনি। আজ বৃহস্পতিবার সকালে শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার কালীমন্দির মোড়, ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড়, মালতিনগর, সুত্রাপুর ও ঠনঠনিয়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মুখে বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে বাঁশ দিয়ে ঘেরা এলাকাগুলোর ভিতরে সামাজিক দুরত্ব বজায় ছাড়াই কিছু কিছু স্থানে জটলা চোখে পড়ে। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা এলাকার গলি পথ ব্যবহার করে বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে বাইরে বের হচ্ছে। এমনকি কিছু কিছু এলাকায় বাঁশ সরিয়ে জনগণ ও যানবাহন চলাচল করছে। তাদের মধ্যে সচেতনতা নেই বললেই চলে। কিছু কিছু এলাকায় দেখা যায় তারা মাস্ক পর্যন্ত ব্যবহার করছে না। শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার বাসিন্দা হাসান জানান, রেডজোন ঘোষণার পর থেকেই তারা বাড়িতে রয়েছেন, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না কিন্তু একটা বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা হলো বহিরাগতদের চলাচল বেড়ে গেছে।

এভাবে বহিরাগতদের চলাচল অব্যাহত থাকলে আইন শৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে এবং করোনার প্রভাব আরও বিস্তার লাভ করবে। তাই তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান,বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য। শহরের সূত্রাপুর এলাকায় দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু জায়গায় বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। দূর-দূরান্ত থেকে শ্রমিকরা এসে কাজ করছে। এই শ্রমিকরাই কে কতটুকু সুস্থ কার ভিতরে ভাইরাস আছে তা বোঝা বড় কঠিন এ কারণে এলাকাবাসীর ভিতরে ভিতি সৃষ্টি হয়েছে। পেটের দায়ে দিনমজুররা কাজ করছে এখানে কি বা বলার আছে।

সুত্রাপুর এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক জানায় রেড জোনের মধ্যে বাড়ি নির্মাণ কাজ কতটুকু যৌক্তিক তা আমি বুঝে উঠতে পারছি না। ইটা বালুর ট্রাক আসছে শ্রমিকরা কে কোথা থেকে আসছে খুব ভীতি কাজ করছেন অন্তরে। কিন্তু এলাকার প্রভাবশালীদের ভয়ে কিছু বলার সাহস আমার নেই। শহরের মালতিনগর, বকশিবাজার, ঠনঠনিয়া, হারিপাড়া, জলেশ্বরীতলা ও সুত্রাপুর এলাকার কয়েকজন তরুণ জানান, বহিরাগতদের ঠেকাতে তারা বাঁশ দিয়ে রাস্তা বন্ধ করেছেন।

এরপরও জনগণ ও যানবাহনগুলো বাঁশ সরিয়ে যাতায়াত করছে। তারা বহিরাগত ও যানবাহন চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বগুড়ার সচেতন মহল মনে করেন, জনগণের মধ্যে সচেতনতা নেই বলেই গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন৭৭ জন এবং মৃত্যু বরণ করেছেন ৬ জন। তারা আরও বলেন, এখনি আমাদের সচেতন হতে হবে ও সরকারি স্বাস্থ্যবিধি সঠিক ভাবে মেনে চলতে হবে।