বগুড়ায় যুবলীগ নেতা তালেব হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার-২

নিয়াজ মোর্শেদ নাইম, দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি উপজেলা প্রতিনিধি: বগুড়ার সাবগ্রাম এলাকার আবু তালেব হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধা সাড়ে ৬ টার দিকে সদরের বারোপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার দুই জন হলেন, নাম চাঁন মিয়া (২১) ও বাপ্পারাজ ওরফে বাপ্পা। এদের দুই জনের বাড়ি সদর উপজেলার আকাশতারার মধ্যপাড়ায়। গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। শুক্রবার রাতে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তালেব হত্যার পর থেকেই জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় একাধিক টিম মাঠে নামে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইন্সপেক্টর এমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে একটি দল শহরের বারপুর এলাকা থেকে রক্তমাখা পোশাক পড়া অবস্থায় ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঁন ও বাপ্পা খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধারে যাওয়া হয়। তাদের কথামত আকাশতারা এলাকার বগুড়া-গাবতলী রোড সংলগ্ন (এশিয়ান পেইন্ট এর গুদামের সাথে) ইউক্যালিপটাস বাগানের ভিতর থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। এ সময় ওই চাকু উপস্থিত জনগণের সামনে জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে পালিয়ে বেড়ানোর কারনে তারা পোশাক পরিবর্তন করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন আসামী দুই জন। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঁন ও বাপ্পা আরও জানায়, মামলার ১ নং আসামি ফিরোজ ওরফে ফোকরাসহ তারা তিনজনই একসাথে চলাফেরা করতেন। তারা প্রায় সবসময় বার্মিজ চাকু সাথে রাখতেন। ১ নম্বর আসামি ফিরোজের সাথে খুন হওয়া তালেবের পূর্বে ভাল সম্পর্ক থাকলেও সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। চাঁন এবং বাপ্পার সাথেও তালেবের সম্পর্ক ভাল ছিল না। তালেব বিভিন্ন সময়ে তাদের বিভিন্ন ইস্যুতে ডাকলেও তারা যেত না। তালেবের বড় ভাই সুলভ আচরণ তিনজনের কেউই মন থেকে মেনে নিতে পারেনি।

অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদ্বয় পুলিশকে জানায় মামলার আসামি তিনজনই একসাথে চলাফেরা করে।তারা প্রায় সবসময় বার্মিজ চাকু বহন করে থাকে। ১ নম্বর আসামি ফিরোজ @ ফোকরার সাথে খুন হওয়া তালেবের পূর্বে ভাল সম্পর্ক থাকলেও সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। চাঁন এবং বাপ্পার সাথেও তালেবের সম্পর্ক ভাল ছিল না। তালেব বিভিন্ন সময়ে তাদের বিভিন্ন ইস্যুতে ডাকলেও তারা যেত না। তালেবের বড়ভাই সুলভ আচরণ তিনজনের কেউই মন থেকে মেনে নিতে পারেনি।

হত্যার বিবরণে তারা জানান, ঘটনার দিন এই তিনজন ঘটনাস্থলের পাশে আইয়ুবের দোকানে পান খাচ্ছিল। এমন সময় তালেব একটা মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে আসেন। মোটরসাইকেল থেকে নেমে সে চাঁনকে ডাক দিলে তিনজনই এগিয়ে যান। তালেব চাঁনকে জিজ্ঞেস করে ‘কিরে,কথা শুনিস না কেন, বেশি সেয়ানা হয়ে গেছু? কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চাঁন চাকু বের করে তালেবের বুকে আঘাত করলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পিছন থেকে তিনজনই তালেবকে এলোপাথারি ছুড়ি মারতে থাকেন।তালেব মাটিতে পড়ে যাবার পরেও তারা মারতে থাকেন । এ সময় ফিরোজের চাকুর আঘাতে তালেবের শ্বাসনালী প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।তাদের নিজেদের এলোপাথারি কোপে চাঁনের ডান হাতের কনিষ্ঠ আংগুল এবং ফিরোজের ডান কনুই কেটে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ঘটনায় জড়িত অপর আসামি ফিরোজকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান আছে। আর চাঁন ও বাপ্পাকে আজ শনিবার (২০ জুন) আদালতে সোপর্দ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন রোববার দুপুর দেড়টার দিকে সাবগ্রাম বাজার ইউনিট যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তালেবকে (৩৫) শহরের আকাশতারা জুট মিলের সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিহত তালেবের স্ত্রী বাদি হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটা হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়। হত্যার ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপার নির্দেশনায় বেশ কয়েকটি টিম মাঠে নামে। টিমগুলো ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে তৎপর হয়।