বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে নৌকা বাইয়ে জীবনের ঘানি টানছে বৃদ্ধ টুকু প্রামানিক

জাফরুল সাদিক, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ  বয়স হলে কি হবে, খেতে তো হবে। ছেলেমেয়েদের তো খাওয়াতে হবে। কাজেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌকা চালানো ছাড়া কি উপায় বলেন ? অনেকে বয়ষ্ক ভাতা পায় আমি সেটাও পাইনা। একথাগুলো বলেন, ৭৩ বছর বয়ষ্ক বৃদ্ধ টুকু প্রামানিক নামে এক খেয়া ঘাটের নৌকার মাঝি।

জীবন সায়ান্নে এসেও নৌকা বাইয়ে সংসারের ঘানি টেনে চলেছেন বৃদ্ধ টুকু প্রামানিক। অথচ এ বয়সে তার অবসর জীবন কাটনোর কথা। বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা ও বাঙ্গালী নদী। নদীর দু’ধারে অসংখ্য গ্রামের অবস্থান। নদী ভাঙনে যেমন বসতভিটা ভেঙে গিয়ে মানুষ ছিন্নমূলে পরিনত হয়। আবার নদীকে ঘিরে অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

উপজেলার নারচী ইউনিয়নের বাঙ্গালী নদী পাড়ের একটি গ্রাম গণকপাড়া। ওই গ্রামের টুকু প্রামানিক বাঙ্গালী নদীতে ৪০ বছর হলো যাত্রী পারাপার করেছেন। ভ’মিহীন টুকু প্রামানিকের নিজের কোন জমিজমা নাই। চরগোদাগাড়ি ও গণকপাড়ার নিকট বাঙ্গালী নদীতে নৌকা চালিয়ে যাত্রী পারাপার করেন। এটি কোন স্থায়ী তালিকাভ’ক্ত খেয়াঘাট না। ফলে খেয়া ঘাটটি কোন নিলাম ডাক না হওয়াতে কাউকে টাকা দিতে হয় না।

কাক ডাকা ভোর হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত খেয়া নৌকা চালিয়ে যাত্রী পারাপার করে যে আয় করেন তা দিয়ে কোন মতে সংসার চলে তার। এপথে সাধারনত দু’গ্রামের লোকজন নদী পারাপার হয়ে থাকে। সারাদিন খেয়া নৌকা চালিয়ে ৫০/৬০টাকা আয় হয়ে থাকে। এক ছেলে ও ৬ মেয়ের মধ্যে প্রাইমারী পাশের আগেই বিয়ে দিয়েছেন দুই মেয়ের। অন্য দুই মেয়ে সামান্য লেখাপড়া করার পর অভাব অনটনের সংসারে দর্জির কাজ করে সংসারের কাজে সাহায্য করেন। দুই মেয়ে ও একমাত্র ছেলে এখন লেখাপড়া করছে। কিন্তু তাদের লেখাপড়ার খরচ বহন করা সম্ভবপর হচ্ছে না বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, এই বৃদ্ধ বয়সে আর নৌকা চালাতে পারি না। বন্যার সময় ভরা নদীর স্রোতে নৌকা চালানো আরো কঠিন হয়ে পড়ে। কোন স্বহৃদয় ব্যক্তি যদি কিছু অর্থ সাহায্য করেন, তাহলে একটি মুদি দোকান করে সংসার চালাতে পারবো। তখন আর এত কষ্ট করে নৌকা চালাতে হতো না।