বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে কৃষি অধিদপ্তর বিনামূল্যে আমন চারা বিতরণের মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন

জাফরুল সাদিক,সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি:বগুড়ার সারিয়াকান্দি কৃষি অধিদপ্তর কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে চারা গাছ বিতরণ করার মত মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কমিউনিটি বীজতলার আওতায় প্রস্ততকৃত এ চারাগাছ প্রায় ১২শ বন্যায়ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের মধ্য বিতরণ করা হবে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার ৩দফা বন্যায় সারিয়াকান্দি উপজেলার কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। বিশেষ করে পাট চাষীরা ক্ষতি মুখের পরায় তাদের মাথায় হাত পড়েছে। আর আমন চাষীদের আমনের জমি বন্যায় পানিতে বিনষ্ট না হলেও আমন বীজতলায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
এ উপজেলায় এবার আমন বীজতলা তৈরী করা হয়েছিল প্রায় ৬শ ৩৫ হেক্টর জমি। তার মধ্যে ৬৫ হেক্টর জমির বীজতলা দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় সম্পূর্ণরুপে নষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য আমণ চাষের লক্ষ মাত্রা অর্জনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে বা অনেক জমি চারা গাছের অভাবে পতিত থাকতে পারে। যাতে করে পতিত না থাকে সেজন্য উপজেলা কৃষি অফিস ২০ একর জমি অর্থাৎ ৬০ বিঘা জমিতে কমিউনিটি বীজতলায় চারা গাছ তৈরীর জন্য প্রস্তুত করেছেন। এরইমধ্যে এ চারা গাছ গুলো তরতর করে বেড়ে উঠছে। উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা কুদরত-ই-খুদা জানান, প্রতি একরে ৩শ কেজি করে মোট ৬হাজার কেজি বীজ বপন করা হয়েছে। বিআর-২৩ জাতের ধান বীজ দিয়ে এ বীজতলা তৈরি করা হয়েছে।
ভাদ্রমাস জুড়ে কৃষকরা এই জাতের চারা রোপন করতে পারবেন। প্রতি বিঘায় উৎপাদন হবে প্রায় ১৫/১৬ মন ধান। এ ধান ঘরে আসতে বীজ বপনের দিন থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত ১২০ দিন সময় লাগবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ চরাঞ্চলের কৃষকদের এই চারা গাছ দেয়া হবে। প্রস্তুতকৃত ওই পরিবার চারা গাছ দিয়ে ৪শ একর জমিতে ধানের আবাদ করা যাবে। ফুলবাড়ি গ্রামের কৃষক সাজু প্রামানিক বলেন, আমন ফসল লাভজনক ফসল । এটি অল্প খরচে ঘরে ওঠে। কিন্তু বন্যার পর অনেক চাষি চারা গাছের অভাবে জমি পতিত যাতে না থাকে সেজন্য সরকারি ভাবে এ উদ্দ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে ।
নিঃসন্দেহে এটি সরকারের একটি মহতি উদ্যোগ। উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, বন্যার পরবর্তী চরাঞ্চরের কৃষকরা সচারাচর স্থনীয় জাতের গাইঞ্জা ধানের আবাদ করে থাকেন। এ জাতের ধানের আবাদ করে কৃষকরা অধিক ফসল ঘরে তুলবেন বলে আশা করা যায়। বন্যার পর যারা ক্ষতিগ্রস্থ, আবার আগ্রহী তাদেরকে কেবল এ চারা গাছ বিনামূল্যে দেয়া হবে।