বগুড়ার শেরপুরে তিন বাস কাউন্টার কর্মচারীর জরিমানা

নিয়াজ মোর্শেদ নাইম, দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি উপজেলা প্রতিনিধি: সরকারের বেঁধে দেওয়া ৬০ ভাগ ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে অমান্য করে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করায় বগুড়ার শেরপুরে ‘শ্যামলী পরিবহন’ এন আর ট্রাভেলস এবং শাহ ফতেহ আলী কাউন্টারের কর্মচারীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত শেরপুর ঢাকা বাস টার্মিনালে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন শেরপুর উপজেলা এক্সিকিউটিভ-ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জামশেদ আলাম রানা।

শেরপুর উপজেলা এক্সিকিউটিভ-ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জামশেদ আলাম রানা জানান, তিনি টার্মিনালে আগত ও টার্মিনাল ছেড়ে যাওয়া বাসে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণে গিয়ে যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে মর্মে অভিযোগ করেন।

অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগটি সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত হওয়ায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী শ্যামলী, এন আর ট্রাভেলসের কাউন্টারের কর্মচারীকে ৩ হাজার টাকা, শাহফতেহ আলী পরিবহনের কাউন্টার কর্মচারীকে ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

এছাড়া তিনি নওগাঁ থেকে আগত শাহফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় হচ্চে কিনা তা পর্যবেক্ষন করলে তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে পারেন এবং ঘটনাস্থলে তাদেরকে বাড়তি ভাড়া ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এবং বাসটির সুপারভাইজারকে সতর্ক করে দেন। অভিযানে শেরপুর থানা পুলিশ সহযোগিতা করেন। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যহত থাকবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। এর ১৭ দিন পর ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি গণপরিবহণও বন্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ৬৭দিন বন্ধ থাকার পর গত ১ জুন থেকে তা আবার চালু হয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদেরকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিটি বাসে নির্ধারিত আসনের ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করতে বলা হয়। যাত্রী কমে যাওয়ায় পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের যাতে লোকসান গুণতে না হয় এজন্য যাত্রীদের ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর জন্য বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।