বখাটের প্রেমের-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ফেইসবুকে স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর ছবি

 নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ৭নং বামনী ইউনিয়নের এক বখাটের লালোসা পূর্ন কুদৃষ্টি পড়েছে কিশোরি এক স্কুল ছাত্রীর উপর সেই সুবাদে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই হয়রানি এবং অপমান সইতে না পেরে ওই ছাত্রী লজ্জায় আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলে জানা যায়। তথ্য মতে জানা যায়।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে গত সোমবার (১৫ জুন) রাতে ওই স্কুলছাত্রীর মা রায়পুর থানায় চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি জানা জানি হয়ে গেলে গনমাধ্যম কর্মীরা অনুসন্ধানে নামে। এতে জানা যায় অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার বামনী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বামনী গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে রাছেল হোসেন, শারমিন আক্তার, জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ইমন হোসেন শুভ ও মোঃ আরিফের নাম।

এই ঘটনায় গ্রাম বাসির মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগের থেকে সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রী বামনী ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের শামছুন্নাহার উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থি। সহপাঠী ইমন হোসেন তাকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দেয় এবং প্রতিনিয়তই তাকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে হয়রানি করে। এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একাধিকবার বৈঠকে ওই ছাত্রীকে হয়রানি না করার জন্য ইমনকে হুশিয়ার করে দেয়া হয়।

এরপর ও সে ক্ষান্ত হয়নি, বরং সে আরো বেশি বেপোরোয়া হয়ে উঠে। গত ঈদুল ফিতরের দিন ইমন কৌশলে অন্য ছাত্রীকে দিয়ে ওই ছাত্রীকে ঘুরতে নিয়ে যায়৷ এ সময় ইমনের সহযোগীরাও তাদের সঙ্গে ছিল। এক পর্যায়ে ছাত্রীর গলায় ও হাতে থাকা স্বর্ণালংকার তাঁরা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তাকে ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তার কয়েকটি আপত্তিকর ছবি তোলা হয়। পরে একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ওই ছাত্রীকে ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে ইমনের বাবা জাহাঙ্গীর প্রায়ই মোবাইল ফোনে ওই ছাত্রীর মাকে কল দিয়ে তার ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে চাপ দেন।

কিন্তু বাল্য বিয়ে দিতে নিষেধ করায় গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে সহযোগী আরিফ ডাব বিক্রেতা সেজে ওই ছাত্রীকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আরিফ পালিয়ে যায়। পরে ওই ছাত্রীর আপত্তিকর ছবিগুলো রোববার (১৪ জুন) অপর সহযোগী রাছেলের মাধ্যমে তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে। এতে খারাপ কিছু লেখাও পোস্ট করে রাছেল।

এ ঘটনা সহ্য করতে না পেরে ওই ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করে। শৃষ্ট ঘটনার সম্পর্কে ওই স্কুলছাত্রীর মা সাংবাদিকদের জানান, স্বামীর মৃত্যুর পরে তিনি মেয়েকে তার বাবার বাড়িতে রেখে ওমান চলে যান। পরে ছুটিতে তিনি দেশে এসেছেন। এখন মেয়েকে নিয়ে তিনি দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন। তিনি এখন এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি। এ বিষয়ে রায়পুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কুদ্দুছ মিয়া জানান, বিষয়টি নিয়ে ওই ছাত্রীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।