মরদেহের আড়ালে ফেনসিডিলের চালান হতভম্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

লাশ বহনের ফ্রিজিং গাড়িতে কাফনে মোড়ানো চারটি মরদেহ। কিন্তু পুলিশের তল্লাশিতে কাফনের মধ্যে মরদেহের বদলে পাওয়া গেল ফেনসিডিল।

অবিশ্বাস্য এই কৌশলে মাদক পাচারে হতভম্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় এভাবে মাদক পাচারের ঘটনাটি ধরা পড়ার পর বিষয়টি পুলিশকেও ভাবিয়ে তুলছে।

কুমিল্লা থেকে মরদেহ নিয়ে এই ফ্রিজিং গাড়িটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে রবিবার সকালে। বঙ্গবাজারে গোয়েন্দা পুলিশ গাড়িটিকে থামায়। জিজ্ঞাসাবাদে চালক জানায় গাড়িতে আছে ৪টি মরদেহ। সন্দেহ হয় পুলিশের। তল্লাশি করে দেখা যায় কাফনে মোড়ানো ৪টি মরদেহ ঠিকই আছে। কিন্তু সন্দেহ র’য়েই যায়।

তারপর কাফন খুলে দেখা যায় মরদেহের কোনো অস্তিত্বই নেই। বরং তার আদলে সাজানো আছে ফেনসিডিলের বোতল। কুমিল্লা থেকে এভাবে ফ্রিজিং গাড়িতে করে মরদেহের আড়ালে দুইহাজার বোতল ফেনসিডিল আনা হচ্ছিল ঢাকায়।

পুলিশ বলছে, অপরাধীরা তাদের চোখ ফাঁকি দিতে প্রতিনিয়ত কৌশল বদলায়। তবে এটি একেবারে অবিশ্বাস্য। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান বলেন,’আমাদের দেশে যদি একবার মাদকগুলো ঢুকে যায় তবে সেগুলো তন্ন তন্ন করে খুঁজে বের করা খুবই কষ্টকর। আমাদের সীমান্ত রক্ষাকারী যারা আছেন তারা যথেষ্ট স্মার্ট এবং প্রযুক্তি নির্ভর। তারা যদি আরেকটু আন্তরিক হন, আরেরকটু বিবেকবান হন , তারা যদি সাপ্লাই চেইনের মূল জায়গা একেবারে বন্ধ করে দিতে পারেন তবে এগুলো দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ার পর তাদেরকে ধরতে আমাদেরকে এত বেগ পোহাতে হয় না।’

গেলো কয়েকমাসে চুয়াডাঙ্গা, বেনাপোল, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় নানান পন্থায় মাদকের চালান এসেছে।  যদিও শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তাদের কৌশল ধরাও পড়েছে।