ফেনীতে বেশ রোগী আছে হাসপাতালে এসে কোনো রোগী যেনো ফিরে না যায় নৌ-পরিবহণ

মোঃআহছান উল্যাহ, ফেনী জেলা প্রতিনিধি: সচিব বাংলাদেশ সচিবালয়ের নৌ- সচিব মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, দেশের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ৬২ ভাগ বেড খালী পড়ে আছে । কিন্তু ফেনীর ক্ষেত্রে হাসপাতালের চিত্র সম্পুন্ন ব্যতিক্রম। ফেনীতে বেশ রোগী আছে।এ ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। ফেনী হাসপাতালে এসে কোনো রোগী বিনা চিকিৎসায় যেন ফিরে না যায়।হাসপাতালের বেড না খালী না থাকে তা অবজারবেশন করতে হবে। তিনি আরো বলেন, ফেনীতে অনেকের মুখে মাক্স আছে কিন্তু ঠিক জায়গায় নেই। অনেকে থুতনীর উপর মাকস পেলে রাখে। এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

কারো শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে তাঁর উচিত নিজেই জন-সমাগম স্থান ত্যাগ করা।এভাবে আমাদের সবাইকে সচেতন হয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে হবে। যদি তাপমাত্রা ৯৯ পার্সেন হয় তখন তাকে বাড়িতে কোরারেন্টাইনে থাকতে হবে। ফেনীতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ সংক্রান্ত কোভিড-১৯ সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন । শনিবার সকাল ১১টায় ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদুজ্জামান। শুরুতে ফেনীর প্রয়াত সিভিল সার্জন ডাঃ সাজ্জাদ হোসেন স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। করোনাভাইরাস মোকাবেলা ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ে ফেনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তর প্রধানদের সাথে মত বিনিময় করেন।

এসময় আসন্ন ঈদুল আযহা সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাট ব্যবস্থাপনার ওপর পরামর্শ দেন। অনলাইনে পশু বেচাকেনায় উদ্বুদ্ধকরণ পন্থা গ্রহণে ফেনীর ছয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় মানুষকে অনলাইন মার্কেটের দিকে আগ্রহী করতে হবে। পশুর বড় হাটগুলো চলমান রেখে ছোট হাটগুলো চলতি বছরের জন্য বন্ধ করে দেয়া যেতে পারে। হাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ভিন্ন রাখতে হবে এবং মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে জোর প্রচারণা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু সতর্ক থাকলে হবে না। ঈদে সংক্রমণরোধে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে হবে এবং তা সবাইকে নিয়ে মেনে চলতে হবে। এসময় তিনি সহযোগী ভূমিকা নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেন। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে হাই ফ্লো অক্সিজেন সেবা নিশ্চিতে দ্রুততর সময়ে লিকুইড অক্সিজেন ট্যাংক স্থাপনে আবেদন জানান হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আবুল খায়ের মিয়াজী।

বক্তব্যের সূত্র ধরে সচিব বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগে আলোচনা করে তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা হবে। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী ছলিম উল্যাহ প্রাইভেট চ্যানেলের মাধ্যমে জেলায় চলমান অনলাইন ক্লাস সম্প্রচারের অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে উপযোগিতা যাচাই ও করণীয় বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেন। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই ফেনী ট্রমা সেন্টার ও সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল ঘোষণা করে স্বাস্থ্য বিভাগ। ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ মাসুদ রানা জানান, এখনো পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জনবল ও কোনোরকম বরাদ্দ না পাওয়ায় চিকিৎসাসেবা শুরু করা যায় নি। এ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, স্বাস্থ্য সচিবের সাথে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে। সচিব বলেন, এখনই সময় করোনা প্রতিরোধে সজাগ হওয়া। আমরা সচেতন হয়েছি, এখন সময় প্রতিরোধের। তিনি বলেন, কিছু মানুষ এখনো স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানছেন না। তাদের কারনে অন্যরাও ঝুঁকিতে।

আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে যেন অন্যকে আক্রান্ত না করি। তিনি বলেন, সরকার জনগনের জন্য সবরকম সেবা নিশ্চিত করেছে, চলনমান পরিস্থিতেতে হতাশ না হয়ে সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তোফায়েল আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম, পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট হাফেজ আহম্মদ, ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র আশ্রাফুল আলম গিটার প্রমূখ।

জেলা প্রশাসক মোঃ ওয়াহিদুজজামানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত আরও ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান বিকম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তোফায়েল আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী ছলিম উল্যাহ, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম, পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট হাফেজ আহম্মদ, ফেনী পৌরসভার প্যানেল মেয়র আশ্রাফুল আলম গিটার প্রমূখ।