ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম

মোঃ ইলিয়াস মোল্যা বোয়ালমারী , আলফাডাঙ্গা,বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ‘কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই’ এই প্রবাদ প্রবচনের জ্বলজ্বলে প্রমাণ মিললো ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহে সরকারি চাল ক্রয় কমিটির বরাদ্দে।

এ বছর উপজেলাটির মোর্সাস নুর এন্ড ব্রার্দাস নামে একটি বন্ধ চালকলকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩০৭ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা। খাতাপত্রে ইতোমধ্যে মিলটি থেকে সংগ্রহও করা হয়েছে ১০২ মেট্রিক টন চাল। অথচ সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বরাদ্দকৃত চালকলটি বন্ধ পরে আছে বেশ কয়েক বছর।

চালকলটির চাতালটি জুড়ে ধুলো, বালি, আবর্জনার ¯ুÍপ আর ঘাস, আগাছা-লতাপাতার জঙ্গল। একপাশে একচিলতে জায়গায় বাৎসরিক লিজের বিনিময় ধান সিদ্ধ, শুকনো করার ব্যবস্থা থাকলেও তা করে থাকে একজন স্থানীয় চাল ব্যবসায়ী।

চালকলটির মূল মালিক উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আকরাম হোসেনের ভাই মোঃ নুরুজ্জামান ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে দীর্ঘদিন। তারপরও তার চালকলের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩০৭ মেট্রিকটন চাল। অনুরুপ আলফাডাঙ্গার কুসুমদি গ্রামে বিস্মিল্লাহ রাইচ মিলের স্বত্বাধিকারী মোঃ ফজলুর রহমান জানান, এ বছর তিনি মিলটিতে বরাদ্দ পেয়েছেন ২৮ মেট্রিকটন চাল সরবারহের।

অথচ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রেক কার্যলয়ের আহরণ ও ব্যয়ন কর্মকর্তা মোঃ হারুনার রশিদের স্বাক্ষরিত বরাদ্দ আদেশে দেখা যায় চালকলটি বরাদ্দ পেয়েছে ৭৮ মেট্রিকটন। ফজলুর রহমান জানান, এ পর্যন্তু ১৬ টন চাল খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা হয়েছে। অথচ খাদ্যগুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, আমি নতুন এসেছি আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগে বরাদ্দকৃত চালের মধ্যে ১০২ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।

তবে বিসমিল্লাহ রাইচ মিল এ পর্যন্ত কোন চালই সরবরাহ করেনি। মোর্সাস নুর এন্ড ব্রার্দাস চালকলের স্বত্বাধিকারী মোঃ নুরুজ্জামান এর (০১৭১৭৭৫৪৭৭৭) মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা চেষ্ট করলেও মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোঃ সাহিদার রহমান জানান,আমি সদ্য ফরিদপুরের যোগদান করেছি ইতোপূর্বে আলফাডাঙ্গা বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যে সংগ্রহে কিছুটা অনিয়মের বিষয় আমি অবগত হয়েছি ও এ বিষয়ে আমার উদ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

ফরিদপুর জেলায় ভবিষ্যতে খাদ্যশস্য সংগ্রহে যাচাই-বাছাই করে বরাদ্দ দেওয়া হবে। উল্লেখ্য এ বছর দু’টি চালকলে বরাদ্দ দেওয়া হলেও চাতাল মালিক ও খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যোগসাজশ করে গোপনে বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করে আগে থেকে গুদামে সংরক্ষিত ভাল চালের সাথে মিশ্রণ ঘটিয়ে গুদামজাত করতে গেলে হাতেনাতে ধরে ফেলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম আহাদুল হাসান আহাদ।

বিষয়টি তদন্তে দোষী সাবস্ত হওয়ায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ইকরামুল হককে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। গত মাসের ২৮ আগস্ট পর্যন্তু উপজেলাটিতে ৩৮৫ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহের বরাদ্দ আদেশ দেওয়া হলেও এ পর্যন্তু ১০২ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে সরকারি খাদ্যশস্য ক্রয় কমিটি।