ফরিদগঞ্জে ২জন অফিসার দিয়ে হাটবাজারের তদারকি অসম্ভব; জনস্বার্থে জরুরী বিকল্প ব্যবস্থা নেয়ার দাবি

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার: মরনব্যাধী করনো ভাইরাসকে পূজি করে ফরিদগঞ্জে অসাধু ব্যবসায়ীদের নিত্য প্রয়োজনীয় পন্যর অহেতুক অজুহাতে চড়া মূল্য ঠেকাতে অবশেষে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।

তবে জেলার মধ্যে ঘনবসতি ও বৃহৎ আকারের এ উপজেলার ৪১টি বাজারে হু-হু করে বেড়ে উঠা পন্যর মূল্যে বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রনে রাখতে গিয়ে সরকারি জনবল সংকটের কারনে হিমশিম খেতে হচ্ছে সবাইকে।

সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে, দেশের সর্বত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। সরকারের এই ঘোষনাকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে একশ্রেনীর অসাধূ ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকটের অপপ্রচার চালিয়ে হু-হু করে বাড়াচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যর দাম।

গতকাল শুক্রবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তারের নের্তৃত্বে পুলিশসহ উপজেলা সদরের মধ্যে বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চলে।

এ সময় দোকানে বেশী মূল্যে পন্য বিক্রি ও দোকানে মূল্যে তালিকা না সাঁটানোর অভিযোগে ৩টি দোকানের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে।

এদিকে জনবল সংকটের কারনে জরুরী মুহর্তে উপজেলার মোট ৪১টি হাট বাজারে থাকা নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যর দোকানগুলোতে তদারকি করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে প্রশাসনের। যার ফলে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব থামাতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্টদের।

এক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগন সোচ্চার না হলে প্রতিনিয়িত প্রতারিত হতে হবে অসাধূ ব্যবসায়ীদের কারসাজির কাছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র ও ভুক্তভোগীরা বলছেন, জনবল সংকটের কারনে উপজেলার ৪১টি বাজার তদারকি করা সম্ভপর নয় । এ ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দিক নির্দেশনায় বিভিন্ন সরকারি বিভাগের কর্মকর্তারা পুলিশ নিয়ে হাটবাজারগুলোতে তদারকি করতে ক্ষমতা দিলে হয়তো তখণ অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্বটা কমে আসবে।

যদি এটি নাই করা হয়, তাহলে কোন অবস্থাতেই একজন ইউএনও ও একজন সহকারী কমিশনার দিয়ে ৪১টি বাজারের দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রন সম্ভব হবে না।

এ নিয়ে গতকাল অবশ্য উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা নিয়ে বৈঠক হয়েছে। এ বৈঠকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রনে রাখতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে শাহাবুদ্দিনের মুদি দোকানের ১০ হাজার টাকা, হারাধনের মুদি দোকানের ১০ হাজার টাকা ও ফারুকের পোল্ট্রি দোকানের ৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এ নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিষ্ট্রে , উপজেলা সহকারী কমিশনার শারমিন আক্তার জানায়, দোকানে মূল্যে তালিকা না থাকা ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্য বিক্রির দায়ে ভোক্তা অধিকার আইন ২০৯ (৩৮) ধারা মতে ওই তিনটি দোকান থেকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জনস্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান উপজেলা প্রতিটি বাজারে পর্যায়ক্রমে চলবে। কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যর দাম বেশী নিলে ৯৯৯ নাম্বার ছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের কাছে মোবাইলে কিংবা লিখিত ভাবে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।

ফরিদগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি গতকাল শুক্রবার এ প্রতিনিধিকে বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যার বাজার নিয়ন্ত্রনে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ উপজেলা প্রতিটি বাজারেই পর্যায়ক্রমে প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট চলবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও আরো বলেন, জনবল সংকটের কারনে উপজেলার ৪১টি হাটবাজারে আমি এবং এসি ল্যান্ড (ভূমি) মোবাইল কোর্ট চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে জনস্বার্থে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যর মূল্যে নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য বিকল্প কোন উপায় বের করা যায়কিনা তা সম্পর্কে আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে কথা বলবো।