প্রসঙ্গঃ ফেনী গ্যাস ফিল্ড

মোঃ আহছান উল্লাহ ,জেলা প্রতিনিধি: ফেনি সদর উপজেলার ধলিয়া ও বালিগাঁওয়ে মোট ৫টি গ্যাস ফিল্ড রয়েছে। খনন করার পর দেখা যায়,দু,টি মৃত দু,টি ভার্জিন। অর্থাৎ খনন করা হয়নি। একটি ছিল চলমান। চলমান গ্যাস ফিল্ড থেকে উৎপাদনে ছিল, কানাডিয়ান কোম্পানী নাইকো। পেট্রো বাংলার সাথে নাইকোর সম্পাদিত চুক্তি হয়। এতে দেখা যায়, নাইকো ৬০% আর পেট্রো বাংলা বা সরকার ৪০%। প্রতিদিন প্রায় ৪ লক্ষ্য ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হচ্ছিল। বাকী দু,টি গ্যাস ফিল্ড খননের জন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নাইকো নিয়ে আসে।

বিএনপি – জামাত সরকারের সময় নাইকোর সাথে সম্পাদিত চুক্তিতে সিলেটের লাউয়া ছড়া গ্যাস ফিল্ড চলে যায়। নাইকো গ্যাস উত্তোলনকালে লাউয়া ছড়া গ্যাস ফিল্ড বিস্ফোরণ ঘটে। নাইকোর বিরুদ্ধে সরকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করে। এতে নাইকোর সাথে পেট্রো বাংলার দূরত্ব বাড়ে। ফেনী গ্যাস ফিল্ডের উত্তোলিত গ্যাস বাবদ পেট্রো বাংলার কাছে নাইকো প্রায় ১২ শ,কোটি টাকা পাওনা হয়। নাইকো প্রাপ্য টাকার জন্য বহুবার তৎকালীন সরকারের কাছে ধর্ণা দেয়। কিন্তু টাকা দিতে পেট্রো বাংলা গড়িমসি করায় নাইকো ফেনী গ্যাস ফিল্ড শিশি ঢালাই করে বন্ধ করে দেয়।

সে থেকে এখনো বন্ধ রয়েছে ফেনী বালুয়া চোমুহনী গ্যাস ফিল্ড। নাইকোর অপারেশন ম্যানেজার আবু কায়সার চৌধুরীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গ্যাস ফিল্ড বন্ধ করার সময় প্রতিদিন প্রায় ৪ লক্ষ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হতো। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বর্তমানে সেখানে গ্যাসের ছাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং এখন গ্যাস উৎপাদনে গেলে কমপক্ষে ১০ লক্ষ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব। এব্যাপারে আমি ফেনী প্রতিদিন, দি ডেইলী মুসলিম টাইমস ও দৈনিক ডিজিটাল সময় পত্রিকার প্রতিবেদন করে ছাপিয়েছিলাম।

ফেনী- ১ ও ২ এর সংসদ মহোদয়ের সাথে কথা বলে এব্যাপারে প্রদক্ষেপ নিতে বলেছিলাম। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রেডেও গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব। কেননা গ্যাসের অভাবে দেশে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছেনা। চলমান মিল- কারখানায় গ্যাস সরবরাহ অপ্রতুল হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফেনীতেই রান্না- বান্নার গ্যাস অপ্রতুল। এমতাবস্থায় আল্লার দানীয় গ্যাস উৎপাদন করা সময়ের দাবী। ★ কিছু ব্যক্তির অজ্ঞতায় আশ্চার্য না হয়ে পারিনা। এরা বলে গ্যাস দিয়ে ফেনীর কি লাভ?