প্রধানমন্ত্রীর ঘরে’ ঠাঁই পেল সৈয়দপুরের ৩৬ পরিবার

 সাদিকুল ইসলাম সাদিক, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার দেয়া দুর্যোগ সহনীয় ঘরে ঠাঁই পেয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ৩৬টি পরিবার। প্রধানমন্ত্রী এ উপহারে দিনমজুর, প্রতিবন্ধীসহ হতদরিদ্র এসব পরিবারে মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে দুর্যোগ সহনীয় এসব ঘর নির্মাণ করা হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসব ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ করে সংশ্লিষ্ট পরিবারের মাঝে হস্তান্তর করা হয়।

ফলে শান্তিতে বসবাস করতে পারছেন এ পরিবারগুলো। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইটের গাঁথুনী তৈরি ঘরগুলোর উপরে নীল টিনের ছাউনি দেয়া হয়েছে। দরজাগুলো প্লেনসিটের। এতে দুটো থাকার ঘর, একটি রান্নাঘর ও বাথরুম রয়েছে। যাতে ঝড়-বৃষ্টি, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় সেজন্যে একটু উঁচুতে এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। জানা গেছে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে কামারপুকুরে ৫টি, কাশিরাম বেলপুকুরে ৭টি, বাঙালিপুরে ৭টি, বোতলাগাড়ি ইউনিয়নে ১০টি ও খাতামধুপুরে ৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবারের জন্যে এসব ঘর তৈরিতে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা।

ঘর পেয়েছেন উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ব্রহ্মোত্তর গ্রামের নারী দর্জি মাহামুদা। তার এক প্রতিবন্ধী মেয়ে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইন্সটিউটে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে লেখাপড়া করছেন। আগে তিনি মাটির ঘর থাকতেন। ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান এবং দীর্ঘায়ু কামনা করেন। কাশিরামের বাঁশতলী পাড়ার রাজমিস্ত্রী মিন্টু সরকার, উত্তর সোনাখুলি মাঝাপাড়ার দিনমজুর আজিনুর রহমান, তেলীপাড়ার মোমিন আলীসহ অন্যান্যরা জানান, হামরা যে আয় করি তা দিয়া জীবনে পাকা বাড়ি করির পাইনু না হ্যায়।

শেখ হাসিনা হামার এ্যালার পেকে মুখ ফিরে চাইছে। তাই শেকের বেটির জন্যে দোয়া করি। সৈয়দপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু হাসনাত সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর এসব দুর্যোগ সহনীয় ঘর পেয়ে অভাবী ও গরিব মানুষগুলো শান্তিতে আছেন। প্রকল্পের কাজে কোন অনিময় ও দুর্নীতি করা হয়নি। প্রকল্পের কাজ ও প্রতিটি সামগ্রী ক্রয়ে যথেষ্ট স্বচ্ছতা দেখানো হয়েছে।