প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে “পাড়া উৎস”: আতিকুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে “পাড়া উৎসব” বলেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো: আতিকুল ইসলাম।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০:৩০ মিনিটে রাজধানীর গুলশানের ৬০,৬১ ও ৬২ নং সড়কের বাসিন্দাদের নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় ও গুলশান সোসাইটির আয়োজনে দিনব্যাপী প্রতিবেশীদের মধ্যে আন্তব্যক্তি ও পারিবারিক, সামাজিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে আয়োজিত ‘পাড়া উৎসব’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে মেয়র এ কথা বলেন।

মেয়র আরো বলেন, আমারা এমন একটি শহরই চাই, যেখানে কোন রকম ভেদাভেদ থাকবে না। সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি নগর গড়াই আমার লক্ষ্য। সমাজে ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, ছেলে-মেয়ে, শিশু-বয়স্ক সবার অংশগ্রহণ থাকতে হবে। কেউ পাবে কেউ পাবে না, কারো সুযোগ থাকবে কারো থাকবে না সেটি হবে না। আমাদের শিশুরা খেলার সুযোগ পাচ্ছে না, তাদের বন্ধু হচ্ছে না, তারা কম্পিউটার আর বইয়ে ডুবে থাকে, এভাবে চলতে থাকলে তারা বিষন্নতায় ভুগবে, সেটি আমরা মেনে নিতে পারি না। আরো আশংকার বিষয় হলো খেলাধুলা ও সামাজিক মেলামেশার অভাবে আমাদের এই তরুন প্রজন্মের মাদকাসক্ত ও নেশাগ্রস্ত হয়ে পরার সম্ভাবনা থাকে। আমরা অবশ্যই এটি চাই না। আর সেজন্যই আমাদের এই উদ্দ্যোগ।

আতিকুল ইসলাম আরো বলেন  আমরা চাই এলাকাবাসী সবাই আজ সারাদিন এই উৎসব উপভোগ করবেন, পরিবার নিয়ে রাস্তায় আসবেন, নিজের প্রতিবেশাদেরকে চিনবেন, সামাজিক সম্পর্ক দৃঢ় হবে, নিজ এলাকা ও প্রতিবেশীর জন্য নিজেদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বাড়বে। আর এতে করে সামাজিক অন্যায়, অবিচার, অস্থিরতা কমে আসবে। এভাবেই আমরা সবাই মিলে সবার ঢাকা গড়ে তুলতে চাই। মেয়র বলেন, আমরা চাই বাবা-মা রা তাদের সন্তানদের নিয়ে, দাদা-দাদী, নানা-নানীরা তাদের নাতি নাতনিদের নিয়ে নেমে আসবে, সারাদিন গল্প, খেলা, আড্ডায় তারা মানসিকভাবে বিকশিত হবে, তাদের বন্ধুত্ব হবে, তারা একসাথে মিলেমিশে একে অন্যের এবং এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়রের সাথে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার, সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান, সংসদ সদস্য নাহিদ এজহার খান, স্থানীয় কাউন্সিলর, ডিএনসিসির উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গুলশানের বিভিন্ন বয়সের এলাকাবসী। এরপর মেয়র মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথি ও এলাকাবাসী নিয়ে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শণ করেন। তারা দেশীয় পিঠার স্টলে পিঠা উপভোগ করেন, ম্যাজিক শো দেখেন, বায়োস্কোপ ও পুতুল নাচ উৎসব আয়োজনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। এছাড়া বিভিন্ন খাবারের স্টল, স্বাস্থ্যসেবা স্টল, সিটি কর্পোরেশন স্টল, শো-পিস, পাটের তৈরী ব্যবহার্য্য পণ্যসহ আরো অনেক স্টল আয়োজনকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সেখানে রাখা হয়েছে বড় উইশ বোর্ড, শিশুদের ছবি আঁকার জন্য ক্যানভাস ও রং তুলি, ক্যারাম বোর্ড, দাবাসহ নামান খেলার সামগ্রী। এসময়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ সেগুলো নিয়ে আনন্দে মেতে উঠে। অনুষ্ঠানস্থলে মেয়র আতিকুল ইসলামের মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার ক্যারাম ও দাবা খেলেন। পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য বহনকারী গানের তালে তালে বায়স্কোপও দেখেন। পরে মেয়র আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে পুরো উৎসবস্থল ঘুরে দেখেন। পাড়া উৎসবের আয়োজকরা জানান, শহুরে জীবন মানুষকে এক ধরনের বিচ্ছিন্নতাবােধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। যেখানে প্রতিবেশীদের নিজেদের মধ্যে কোনাে যােগাযােগ নেই, যেখানে একই এলাকার ভেতরে এক প্রতিবেশীর কাছে অপর প্রতিবেশীকে আগন্তুক বলে মনে হয়, যা সামাজিকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘প্রতিবেশী কমিউনিটি’কে দুর্বল করে ফেলে। আমরা প্রতিবেশিরা এক ভবনে দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করি, কিন্তু কেউ কাউকে সেভাবে চিনি না। পাশ দিয়ে হেঁটে গেলেও কথা হয় না। তাই সবার সঙ্গে পরিচিত হতে এবং সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেই আয়োজন করা হয়েছে এমন উৎসব।