প্রকৃত জেলেরা পাচ্ছে প্রজনন মৌসুমের বিশেষ সুবিধা

আনোয়ার হোসেন আনু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসহ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় জেলে তালিকা নিয়ে নানা অভিযোগের পর এবার শুরু হয়েছে প্রকৃত জেলেদের তালিকা তৈরীর কাজ। জেলে নয় এমন কার্ডধারীরা তালিকা থেকে বাদ পরতে যাচ্ছে এ তালিকা প্রনয়নের মাধ্যমে। আগামী ১৫জুনের মধ্যে প্রকৃত জেলেদের তালিকা যাচাই বাছাইয়ের মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানের জন্য বলা হয়েছে। মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতে কুয়াকাটা পৌরসভাসহ উপকুলীয় এলাকার সমুদ্রগামী প্রকৃত জেলেদের তালিকা তৈরীর কাজ করছে পৌর কাউন্সিলর, মেম্বরসহ এর সাথে সংশ্লিষ্ঠরা।

তবে এ তালিকা তৈরী নিয়ে দ্বিমত রয়েছে জেলে সংগঠন গুলোর। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকৃত জেলে তালিকা প্রননয়নে ভোটের হিসেব নিকেষে অপেশাদাররাও জেলে তালিকায় পুর্ণরায় অন্তভূক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের দাবী। ২০মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সমুদ্রে সকল ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এজন্য বেকার থাকা প্রকৃত জেলেদের সরকার প্রথম কিস্তিতে ৫৬ কেজি করে মানবিক সহায়তা (চাল) দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এজন্য সমুদ্রগামী প্রকৃত জেলেদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইতোপূর্বে কার্ডধারী জেলেদের মধ্যে কেউ মারা গেছেন, কেউ ভুল তথ্য দিয়ে তালিকায় নাম সংযুক্ত করেছেন। কেউবা আবার নতুন করে এ পেশায় এসেছেন। এসব কারণে সমুদ্রগামী প্রকৃত জেলেদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তা তুলে দিতে যাচাইবাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের সকল জনপ্রতিনিধিগণ সমুদ্রগামী প্রকৃত এ জেলের তালিকা তৈরি করার পরে যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

আগামি ১৫ জুনের মধ্যে তালিকা চুড়ান্ত করে চাল বিতরনের প্রক্রিয়া চলছে। উপজেলা মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিগন এই তালিকা চুড়ান্ত করবেন। ফলে এবারের এ মানবিক সহায়তা নিতে পারবেন না খালে-বিলে-নদীতে মাছ ধরা জেলে কিংবা জেলে পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কেউ। এমনকি জেলে কার্ড থাকলেও ভুয়া লোকজন কোন চাল পাবেন না। যাচাই-বাছাই করা তালিকা অনুসারে চাল বিতরণের প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। ইতোপূর্বে কলাপাড়ায় উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ১৮ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে কাডধারী রয়েছে ১৩ হাজার পাঁচ শ’ জন। এ তালিকায় প্রায় চার হাজার নাম রয়েছে যারা প্রকৃত জেলে নয়। এ পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন লোকজনও তালিকাভুক্ত হয়েছে। ভাড়াটে হোন্ডাচালক থেকে শুরু করে দোকানি, কৃষক পর্যন্ত তালিকায় নাম তুলে কার্ড করে গরিব জেলেদের চাল হাতিয়ে নিয়েছে। আর যখনই জাটকা আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের জন্য চাল দেয়া হয়েছে তা হাতিয়ে নিয়েছে ওইচক্রটি।

 

এছাড়া জেলে সমিতির নামের অপেশাদারী লোকজন সংগঠনের নেতা বনে থাকায় প্রকৃত জেলেরা তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকছেন। প্রকৃত জেলেদের দাবি তথ্য সংগ্রহকালে কে কোন ট্রলারের জেলে এসব সম্পুর্ণ তথ্য থাকা দরকার। এমনকি ট্রলারের নাম, মালিকসহ জেলের মোবাইল নম্বর পর্যন্ত প্রশাসনের তালিকায় থাকা প্রয়োজন রয়েছে বলেও জেলেদের দাবি। এবিষয়ে কুয়াকাটা পৌর মেয়র আঃ বারেক মোল্লা সাংবাদিকদের জানান,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ওয়ার্ড ভিত্তিকি যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক ভাবে প্রকৃত জেলের তালিকা পৌরসভায় জমা দিবেন।

তাদের তৈরী কৃত তালিকা আবার যাছাই বাছাইয়ের জন্য মৎস্য কর্মকর্তা,কৃষি কর্মকর্তা,পৌর মেয়র,জেলে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের সমন্নয়ে গঠিত কমিটি যাছাই বাচাই করবেন। তালিকায় অর্ন্তভূক্ত সকল জেলেদের ডেকে প্রকৃত জেলেকে কিনা তাদের মাধ্যমে প্রকৃত জেলা সনাক্ত করা হবে। এ তালিকায় অপেশাদারদের অন্তভূক্ত হওয়ার কোন সূযোগ নেই।