প্রকৃতিতে এসেছে বসন্ত: মানুষের মনেও উৎসবের আমেজ

‘এসো এসো বসন্ত, ধরাতলে—আনো মুহু মুহু নব তান, আনো নব প্রাণ, নব গান, আনো গন্ধমদভরে অলস সমীরণ, আনো বিশ্বের অন্তরে অন্তরে, নিবিড় চেতনা’। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসন্তের কাছে চেয়েছেন অনেক কিছু। নব প্রাণ, উচ্ছ্বাস আর নব চেতনা বসন্ত ছাড়া কোথায় পাওয়া যাবে। বাংলার প্রকৃতিতে বসন্তের রাজকীয় আবির্ভাব প্রকৃতির পাশাপাশি মানুষের মনকেও আন্দোলিত করে গভীর আবেশে। সে জন্যই বুঝি বসন্তই ঋতুরাজ।

প্রকৃতির নিয়মে ‘দখিন সমীরণের শিহরণ’ জাগাতে আসলো ঋতুরাজ বসন্ত। পলাশ-শিমুল সেজেছে শাখে শাখে ডালে ডালে। সেই সাজ আন্দোলিত করে মানুষের মনকেও।

শীতের রুক্ষ কঠিন বিদায়ে প্রকৃতি সাজে ঋতুরাজ বসন্তের ঢঙে। ফুলের বাগানেও শুরু হয়েছে রঙের খেলা। বসন্তকে বরণ করে নিতে রমনীরা সাজেন ফুলে ফুলে।  করোনার দুঃসময় কাটিয়ে আবারও জমবে মেলা সেই প্রত্যাশা তরুণ প্রাণে।

নগরের মানুষ যতই নিষপ্রাণ, হিসেবি, প্রকৃতিবিচ্ছিন্ন হোক না কেন, বসন্তের দিনে নেচে ওঠে তাদের মনও। বসন্তের আজ প্রথম দিন নানা আয়োজনে আলোড়িত হবে নগরী। প্রকৃতির ছোঁয়া নিতে অনেকেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়বে। তরুণীরা বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে খোঁপায় গাঁদা, পলাশসহ নানা ফুল গুঁজে আর তরুণরা বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি ও ফতুয়ায় নতুন করে নিজেদের সাজিয়ে নেমে আসবে পথে পথে। উৎসব আয়োজনে রাঙিয়ে নেবে নিজেকে, প্রকৃতিকে।