প্যারেড মাঠে বসেছে চকবাজারের কাঁচাবাজার

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা বাস্তবায়নে নগরীর খোলা মাঠে বাজার সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।  এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার প্যারেড মাঠে চকবাজার এলাকার কাঁচাবাজার বসানো হয়।

কিছুদিনের মধ্যে রেয়াজউদ্দিন বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের পলোগ্রাউন্ড মাঠে স্থানান্তরের কথা জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান বলেন, পরীক্ষামূলক ভাবে চকবাজারের কাঁচাবাজার প্যারেড মাঠে সরিয়ে নেয়া হলেও পর্যায়ক্রমে নগরীর সব বাজার খোলা মাঠে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

“প্রতিটি থানা এলাকার বাজারগুলোকে কাছের একটি খোলা মাঠে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বসানোর চেষ্টা চলছে আমাদের।”

বাজারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পুলিশের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এগিয়ে আসবে বলে আশা সিএমপি কমিশনার মাহবুবের।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্দেশনা জারির পরও নগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে এর কোনো প্রভাব পড়েনি।

এ প্রেক্ষিতে শুক্রবার থেকে নগরীর চকবাজার এলাকার কাঁচাবাজার চট্টগ্রাম কলেজ মাঠে (প্যারেড মাঠ) অস্থায়ী ভিত্তিতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে নগর পুলিশ।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, নগরীর কাঁচাবাজারগুলোতে সামাজিক ‍দূরত্ব কোনোভাবেই বজায় রাখা যাচ্ছে না। চকবাজারের কাঁচা বাজারটি তাই প্যারেড মাঠে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সাতটি সারিতে প্যারেড মাঠে বাজার বসানো হয়েছে। এক সারি থেকে অন্য সারির দূরত্ব রাখা হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ ফুট করে। প্রতিটি দোকানের সামনে যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ক্রেতারা দাঁড়াতে পারেন সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

“পাশাপাশি মাঠে একমুখী যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্রেতারা কেয়ারির সামনের গেইট দিয়ে মাঠে প্রবেশ করে চট্টগ্রাম কলেজের পূর্ব গেইট দিয়ে বের হবেন।”

প্যারেড মাঠের মতো বড় নগরীর আরেকটি মাঠেও বাজার স্থানান্তর এবং বাজারে ক্রেতাদের চাপ কমাতে ভ্যানগাড়িতে করে সবজি বিক্রিরও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান।

নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মেহেদী হাসান বলেন, “চকবাজারের কাঁচাবাজারটি আমরা পরীক্ষামূলকভাবে প্যারেড মাঠে সরিয়ে নিয়েছি। সেখানে ক্রেতা বিক্রেতাদের ভালোই সাড়া পেয়েছি। এভাবে সবগুলো বাজার খোলা মাঠে সরিয়ে নেওয়া হবে।

“পলোগ্রাউন্ড মাঠটিতে বাজার বসানোর জন্য আমরা কিছুদিনের মধ্যে সম্মতি পাব। সেখানেও একটি বড় বাজার সরিয়ে নেওয়া হবে। কাজীর দেউড়ি বাজারকে একমুখী এবং দোকানগুলোর মধ্যে দূরত্ব বাড়ানোর কাজ চলছে।”

পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী বলেন, “আমরা কাঁচাবাজারগুলো থেকে ক্রেতাদের চাপ কমানোর চেষ্টা করছি। সেজন্য সকাল ছয়টা থেকে ভ্যানগাড়িতে মাছ-সবজি বিক্রি করতে বিক্রেতাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।”

এদিকে নগরীর অন্যতম পাইকারী ও খুচরা বাজার রেয়াজউদ্দিন বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের স্থানান্তরের উদ্যোগের কথা জানান কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন।

“রেয়াজউদ্দিন বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বসানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছি। রেয়াজউদ্দিন বাজারে আড়তদাররা পাইকারি বিক্রি করবেন আর খুচরা বিক্রেতারা পলোগ্রাউন্ড মাঠে।”

প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের জন্য বিক্রেতাদের সাথে দুই দফা বৈঠক হয়েছে এবং কিছু দিনের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান ওসি মহসিন।