পুলিশের এসল্ট মামলায় নেতাদের পকেটে রয়ে গেল পরিবহন শ্রমিকদের কল্যাণ ফান্ডের টাকা

এনাম রহমান, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: মামলার নাম পুলিশ এসল্ট মামলা, প্রাথমিক তথ্য বিবরনীতে আসামীর নাম ঠিকানার কলামে কারো নাম উল্লেখ নেই। লেখা রয়েছে অজ্ঞাতনামা ১৫০০/১৭০০ জন। মামলার বাদী দক্ষিন সুরমা পুলিশ ফাঁড়ীর এস আই নুরে আলম সিদ্দিক। ঘটনাস্থল সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল রোড এনা বাস কাউন্টারের সামনে,মামলা নং ২(৬)২০ ধারা ১৪৭।১৪৮।১৮৬।৩৩২।৩৫৩।৪২৭।১১৪ পেনাল কোড।

মামলাটি রেকর্ড করেছেনে এসএমপি’র দক্ষিন সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ ইন্সপেক্টর খায়রুল ফজল। তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ফাঁড়ীর ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর ফায়াজ উদ্দিন ফয়েজ কে। ঘটনার তারিখ ২জুন বিকাল ৩টা৪৫ মিনিট ও সন্ধ্যা ৬ টা। এসল্ট পুলিশের সংখ্যা একজন কনেষ্টবল নং ৩৪৩ আব্দুল খালেক। ঢিল পড়েছিলো তাঁর উপর ।

মামলার ঘটনার সময় কোনো গ্রেফতার ছিলোনা, মামলা রেকর্ডের ১৯ দিন অতিবাহিত হতে চলেছে ১৫/১৭শত আসামীর মধ্যে একজনও গ্রেফতার নেই। সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের কল্যান ফান্ডের টাকার হিসাব সক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুইদল শ্রমিকের সংঘর্ষের ফসল হলো উক্ত পুলিশ এসল্ট মামলা। মামলার মূল এজাহার গর্ভে দুই পক্ষের নেতৃত্ব দানকারী হিসেবে ফলিক মিয়া ও ময়নুল ইসলাম নামে দুজনের নাম উল্লেখ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অনেক শ্রমিকের অভিমত প্রকাশ করেন আমরা যাতে টাকা না পাই তার জন্য পুলিশ দিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে আমাদের বিরুদ্ধে, পুলিশ আমাদের টাকা মেরে খাওয়া নেতার পক্ষে এই মামলা করেছে। পুলিশ বা প্রসাশনের ভূমিকা রহস্য জনক।

এজাহারের নিচের দিকেও উল্লেখ রয়েছে উপস্থিত বিবাদীদের হুকুমে উপস্থিত বিবাদী হিসেবে যদি নেতৃত্ব দানকারী দুজনকে বু্ঝানো হয়, তবে এফ আই আর এ আসামী হিসেবে উক্ত দুজনের নাম উল্লেখ না করার কারন কি থাকতে পারে? ঘটনার দিনের প্রত্যেক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেদিন শ্রমিক নয় এমন লোকজন ও উভয় পক্ষে দাঙ্গায় জড়িত ছিলো।

মামলাটি নিয়ে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, মামলাটি দায়ের ও রুজু করা হয়েছে এক পক্ষের স্বার্থ রক্ষার জন্য,সাধারন শ্রমিকরা যাতে কল্যান ফান্ডের টাকা নিয়ে আর আন্দোলন করতে না পারে এবং করলেই গ্রেফতার করে পুলিশ এসল্ট মামলার আসামী হিসেবে জেল হাজতে প্রেরনের ফাঁদ পেতে রাখা হলো।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পুলিশ এসল্ট মামলায় গাড়ী ও বাস কাউন্টার ভাংচুরের ১লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করার কারনে পুলিশের আসল উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে। কারন মামলায় উভয় পক্ষের শ্রমিকরাই এজাহার অনুযায়ী আসামী কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ বাস কাউন্টারের মালিকানা কিংবা তত্বাবধায়ক সেই নেতৃত্ব দানকারী এবং হুকুমদায়ী একজন শ্রমিক নেতা। যার স্বার্থ রক্ষার জন্য পুলিশ প্রশাসন এসল্ট মামলাটি করেছে ,যাতে কল্যান ফান্ড নিয়ে আর কেউ কথা বলতে না পারে।