পিলখানা হত্যার একযুগেও এখনো ঝুলছে বিস্ফোরক মামলা

পিলখানায় বিডিআর হত্যা মামলার আপিল শুনানি কবে শুরু হবে এখনো জানে না কেউ। দ্রুত শুনানির জন্য আসামিপক্ষ বিশেষ বেঞ্চ গঠনের দাবি জানালেও একমত নয় রাষ্ট্রপক্ষ। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ বছরের শেষে হতে পারে শুনানি। এদিকে একযুগেও শেষ হয়নি বিস্ফোরক মামলার বিচারকাজ।

পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে করা দুটি আলাদা মামলার বিচারকাজ শুরু হয়েছিল একসঙ্গে। বিচারিক আদালত এবং হাইকোর্ট- দুই পর্যায়ে হত্যা মামলা বিচার শেষ হলেও এখনো ঝুলে আছে বিস্ফোরক আইনে করা মামলা। এর মধ্যে কেটে গেছে এক যুগের বেশি সময়। এ মামলায় এক হাজার ৩০০ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১৮০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। ফলে হত্যা ও বিদ্রোহ মামলায় খালাস হলেও বের হতে পারছেন না দুই শতাধিক আসামি।

এ প্রেক্ষাপটে হত্যার মামলার আপিল শুনানির জন্য বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পাশাপাশি বিস্ফোরক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, তারা যেন বের হতে না পারে, সে জন্য আমার মনে হয় প্রসিকিউশন একটা কৌশল হিসেবে তারা এভাবে মামলাটা পরিচালনা করছে।

তবে এ দাবির সঙ্গে একমত নন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। বিস্ফোরক মামলার ধীরগতির কারণ সম্পর্কে জানা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিদ্রোহের নামে হত্যা করা হয় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে। নৃশংস এ ঘটনায় করা দুটি ফৌজদারি মামলায় আসামি ৮৫০ জন। এ ছাড়া বাহিনীর নিজস্ব আইনে করা ৫৭টি মামলায় প্রায় ছয় হাজার জনকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

বিচারিক আদালতের রায়: মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় ১৫২, যাবজ্জীবন-১৬১, বিভিন্ন মেয়াদে সাজা-২৫৬। হাইকোর্টের রায়: মৃত্যুদণ্ড-১৩৯, যাবজ্জীবন-১৮৫, বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয় ২০০ জনের।