পিকে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা বড়াল ৩ দিনের রিমান্ডে

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা বড়ালের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থ-পাচারে সহযোগিতা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বুধবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করে। পরে আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সেগুনবাগিচা থেকে তাকে গ্রেফতার করে দুদক।

অন্যদিকে সোমবার দুদকের জব্দ করা ৭৬৯ কোটি টাকার বিষয়ে পিকে হালদারের সহযোগী বাসুদেব ব্যানার্জী ও পাপিয়া ব্যানার্জীকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা থাকলেও দুদকে হাজির হননি কেউ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী সব মিলে ১০ হাজার ২০০ কোটি টাকার দুর্নীতি। এর মধ্যে পিকে হালদারের ৪০টি ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে ঋণ নেওয়া ছাড়াও তার মা লীলাবতী হালদারের ৩টি ব্যাংক হিসাবে ১৬০ কোটি টাকা জমা হয়। একই ভাবে স্বজনদের বিভিন্ন কোম্পানির নামে করা এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক এমডি পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের ১৭টি ভুয়া কোম্পানিতে থাকা ৫৮টি ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়। এছাড়া এসব প্রতিষ্ঠানের যেসব শেয়ার কেনা হয় তার প্রত্যেকটিতেই পিকে হালদার সিংহভাগের অংশীদার। এর মধ্যে সুখদা লিমিটেডের শেয়ার রয়েছে অবন্তিকা বড়ালের নামে।

পিকে হালদারের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অবন্তিকার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এ বিষয়ে জানতে পিকে হালদারের কথিত বান্ধবী অবন্তিকাকে গত ডিসেম্বরে তলব করা হলেও হাজির হননি তিনি। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের আদেশে যে ১৭টি কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধ হয় সেখানে অবন্তিকার নামেও শেয়ার রয়েছে। সুখদা লিমিটেডে পিকে হালদারের ৯০ শতাংশ ছাড়াও মা লীলাবতী হালদার ও অবন্তিকারও শেয়ার ছিল বলে অনুসন্ধানে পাওয়া যায়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী পিকে হালদার ও তার সহযোগীদের মালিকানাধীন অন্তত ৩০ টি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে এনবিএফআই এর কাছ থেকে ১০ হাজার দুশ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়। পরে এ অর্থ পাচার করে পি কে হালদার। তবে সোমবার দুদকের জব্দ করা ৭৬৯ কোটি টাকার বিষয়ে পিকে হালদারের সহযোগী বাসুদেব ব্যানার্জী ও পাপিয়া ব্যানার্জীকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা থাকলেও গত তিন দিনে তারা দুদকে হাজির হননি।