পার্বতীপুরে মানবেতর জীবন যাপন করছে হোটেল শ্রমিকরা

 আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:  করোনার প্রভাবে দেশব্যাপি লক ডাউন শুরু হওয়ায় বিপাকে পড়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ১০ ইউনিয়ন ও পৌরসভার হোটেল রেস্তোরায় কর্মরত বহু শ্রমিক। এতে খেয়ে না খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করছেন তারা। জানা যায়, করোনা ভাইরাসে কারণে

গত ২৬ মার্চ থেকে অন্য সকল ব্যবসার সাথে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে হোটেল রেস্তোরা। এতে পার্বতীপুর পৌর শহরে ২৬টি ও দশ ইউনিয়নে মোট ৫৭টি বন্ধ হোটেল রেস্তোরা রয়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এসব হোটেল রেস্তোরার ১৬২০ শ্রমিকরা। শহরের নতুন বাজারে তিনটি বড় হোটেল রয়েছে। এর বাইরে আরও ৭টি ছোট বড় হোটেল আছে।

রেল স্টেশনের পশ্চিম পাশে দুটি, পুরাতন বাজারে দুটি, সাগর সিনেমা হল সংলগ্ন তিনটি, থানা মোড়ে দুটি, বাস টার্মিনালে পাঁচটি ও হলদিবাড়ী রেল গেটে দুটিসহ মোট ২৬টি হোটেল রেস্তোরা রয়েছে। শহরের বাইরে দশ ইউনিয়নের মধ্যে বেলাইচন্ডি ও বেনির হাটে ৩টি, মনমথপুর ইউনিয়নের দেউল, দাগলাগঞ্জ, ভবের বাজার ও রাজাবাসরে ৮টি, মোমিনপুর ইউনিয়নের যশাইহাটে ৩টি, মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আমবাড়ি বাজারে ৪টি, হাবড়া ইউনিয়নের হাবড়া বাজার, চৌপথি, ভবানীপুর বাজার ও ফুলেরঘাটে ৭টি, পলাশবাড়ি ইউনিয়নের চকবাজার, চকবোয়ালিয়া, ডাঙ্গার হাট ও খোলাহাটি রেলস্টেশন বাজারে ৭টি, রামপুর ইউনিয়নের ফকিরবাজার, জমিরহাট ও বাসুপাড়ায় ৫টি, হামিদপুর ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাজার, খয়েরপুকুরহাট বাজার, হরিরামপুর ইউনিয়নের মধ্যপাড়া বাজার ও ভাগলপুরে ২০টি।

সব মিলে উপজেলার ছোট বড় ৮৩টি হোটেল ও রেস্তোরায় কর্মরত ১২২০জন পুরুষ শ্রমিক ও ৪০০ মহিলা শ্রমিক কাজ করে তাদের সংসার নির্বাহ করে থাকেন। ফেরি করে চা বিক্রেতে হোটেল শ্রমিক শাজাহান বলেন, হোটেল বন্ধ থাকায় এভাবে রাস্তায় চা বিক্রি করে চাল ডাল কিনতে হচ্ছে। খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। পার্বতীপুর কেন্দ্রিক সংগঠন দিনাজপুর জেলা হোটেল ও রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুল আলম শাহ বলেন, আমাদের এই রেজিষ্টার্ড সংগঠনের সাকল্যে ১১৬৪জন শ্রমিক রয়েছে। এর বাইরে ৪৫৬জন শ্রমিক আছেন। যারা এ সংগঠনের কার্ডধারী সদস্য নন।

সংগঠনের সহ-সভাপতি শ্রী রতন কুন্ডু বলেন, সবচেয়ে অসুবিধে হচ্ছে মহিলা শ্রমিকদের। এসব শ্রমিক হোটেল রেস্তোরায় মরিচ বাটা, মশলা পেষা, থালা বাটি ধোয়া ও তরিতরকারী কাটার কাজ করে থাকেন। এরা ১২ ঘন্টা শ্রম দিয়ে মজুরী পায় ২০০ টাকা করে। করোনার কারণে হোটেল রেস্তোরা বন্ধ হওয়ায় চরম সংকটের মধ্যে পড়েছেন এসব মহিলা শ্রমিকরা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তসলিম উদ্দীন বলেন, আমাদের শ্রমিকেরা কোনরুপ সাহায্য প পাচ্ছেনা। হোটেলের বাবুর্চি, হেলপার, খাবার পরিবেশনকারী বয়, মিষ্টির কারিগর, কারিগরের হেলপার, পরোটার কারিগর, চা ওয়ালা এ শ্রমিকেরা হোটেল রেস্তোরার বাইরে আর কোন কাজ করতে পারে না। করোনার কারণে ১৬২০টি পরিবার এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মিঠু মিয়া বলেন, হোটেল রেস্তোরার মালিকেরা কেজি করে চাল ও ২০০টাকা করে সাহায্য করেছিলেন। মিঠু বলেন, পার্বতীপুর শহরে ১০/১২জন হোটেল শ্রমিক চা, বিস্কিট ফেরিকরে বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। এর বাইরে বিপুল সংখ্যক হোটেল শ্রমিক অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। তাদের সকলকে দ্রুত সাহায্য প্রদানের জন্য কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা তাপস রায় বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম প্রামানিকের উপস্থিতিতে হোটেল শ্রমিকদের মধ্যে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে ।