পার্বতীপুরে জ্বালানি তেলবাহী ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ১৮০ লিটার তেল চুরি, গ্রেফতার ৩ জন

আব্দুল্লাহ আল মামুন, পার্বতীপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের পার্বতীপুরে জ্বালানি তেলবাহী ট্রেনের ইঞ্জিনের তেল পাচার করে বিক্রির সময় লোকোমোটিভের চালক, সহকারী চালক ও চোরাই তেলের ক্রেতাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পার্বতীপুর রেলওয়ে নিরাপত্তা গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা।

আজ রবিবার বিকেল ৫ টায় পার্বতীপুর রেলস্টেশনের আউটার সিগন্যালের কাছে হলদিবাড়ী রেল গেটে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, পিকে ৭ আপ জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন (ইঞ্জিন নং ৬৩১২) খুলনা থেকে পার্বতীপুরে আসছিলো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পার্বতীপুর রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা সদস্যরা আগে থেকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওঁত পেতে থাকে। বিকেল ৫টার দিকে ইঞ্জিন থামিয়ে ১৮০ লিটার তেলসহ (বিশেষ ধরনের পলিথিনের বস্তা ভর্তি) হাতে নাতে আটক করে তাদের। আটককৃতরা হচ্ছে শহরের রহমত নগর মহল্লার এরশাদ আলীর ছেলে চালক (ড্রাইভার) মোঃ সেলিম (৩৮), পাওয়ার হাউজ কলোনীর মৃত আনছার আলীর ছেলে এ এল এম (সহকারী ড্রাইভার) মোঃ উজ্জল হোসেন (২৮), চোরাই তেলের ব্যবসায়ী পাওয়ার হাউজ কলোনীর মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মোঃ হাছান আলী।

এদিকে, রেলের স্থানীয় একটি সূত্রে বলা হয়েছে পার্বতীপুরে দীর্ঘদিন থেকে সিন্ডিকেটভিত্তিক তেল পাচার হয়ে আসছে। তেলবাহি গাড়ির ইঞ্জিন ছাড়াও যাত্রীবাহি লোকাল, মেইল ও আন্তঃনগর ট্রেনের ইঞ্জিন থেকেও তেল চুরির এন্তার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও সান্টিং ইঞ্জিন থেকেও তেল চুরি হয়ে আসছে মাসের পর মাস।

এব্যাপারে জানতে চাইলে পার্বতীপুর ডিজেল সেডের লোকো ইনচার্জ মোঃ কাফিউল ইসলাম জানান, তেলবাহি গাড়িটি খুলনা থেকে পার্বতীপুর এসে পৌছে। লোকোমোটিভের দুই স্টাফ (এলএম এবং এ এল এম) লোকোমোটিভটি (ইঞ্জিন) ঈশ্বর্দী থেকে চার্জ নিয়ে (দায়িত্ব) পার্র্বতীপুরে আসে। তিনি আরও বলেন, আসলে তেল কখনোই চুরি হয়না, দক্ষ ড্রাইভার তার প্রাপ্ত রেশন থেকে যে পরিমান তেল সেভ করে তা বাইরে ফেলে দেয় অথবা একটি সংঘবদ্ধ তেল চোরের কাছে বিক্রি করে দেয়। তার মতে, রেশনে পাওয়া তেল ড্রাইভার তার দক্ষতা দিয়ে সেভ করলেও পুরষ্কৃত করার বিধান না থাকায় তারা এগুলি মিসইউজ করে। অন্য দিকে, ড্রাইভাররা কোন কারণে রেশনের অতিরিক্ত তেল খরচ করলে তাদের জরিমানা গুনতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পার্বতীপুরে কর্মরত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ এমদাদুল হক জানান, রেল ইঞ্জিন থেকে তেল চুরি করে পাচারকালে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ইঞ্জিনের চালক, সহকারী চালক ও ক্রেতাকে আটক করে। তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।