পাম্প সেটসহ সয়ংক্রীয় স্লুইজ গেট নির্মান দাবী এলাকাবাসীর

জসিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা সীমান্তবর্তী রুদ্রপুর খালের ওপর নির্মিত দুটি স্লুুইজ গেট দির্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে ভারতের ইছামতি নদীর পানি বিনা বাধায় খাল দিয়ে প্রবেশ করে হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমি প্লাবিত হচ্ছে। অধিকাংশ বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

প্রায় ৬মাস পর্যন্ত জলাবদ্ধ থাকায় উপজেলার ৫২ টি বিলে ৪০/৪৫ বছর ধরে কোন আমন ফসলের চাষ হচ্ছে না।

ভারতের ইছামতি নদীর জোয়ারের পানি প্রতিরোধ করতে ১৯৮৬ সালে রুদ্রপুর খালের ওপর প্রথমে ৩ ব্যান্ড স্লুইজ গেট নির্মান করা হয়। কিন্তু ত্রুটিপুর্ন নির্মানের ফলে পানি প্রতিরোধ করতে অক্ষম হয় গেটটি। যে কারনে আগের মতই প্লাবিত হতে থাকে এলাকা। এরপর ১৯৯৫ সালে পাশে আরো একটি ৫ ব্যান্ড স্লুইজ গেট নির্মান করাহয়।

সেটিও অচল হয়ে পড়েথাকে।এরপর ২০০৬ সালে কয়েক লাখ টাকা ব্যায় করে গেটের নতুন পাল্লা লাগানো হয়। তাতেও পানি আটকানো সম্ভব না হওয়ায় আগের মতই মাটঘাট ডুবতে থাকে। ভারতের জোয়ারের পনিতে এবছরও ৩ হাজার হেক্টর আবাদী জমি প্লাবিত হয়েছে।পানিতে থৈ থৈ করছে মাটঘাট।

আমনের জমি ডুবেছে অনেক আগেই। শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, দক্ষিনাঞ্চলের ৩হাজার হেক্টর আবাদী জমির ফসল ভারতের উজানের পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে।

উপসহকারী কৃষিকর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেছেন, পত্রিকাসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশের পর আমি ও উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা শৌতম কুমার শীল এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলাম।

চাষীরা আমাদের বলেছেন স্লুইজ গেটদিয়ে ইছামতির পানি খালদিয়ে বিলে ঢুকে পড়ছে।এরপর ডাঙা জমির আউস ধান সহ সব্জি ফসল ডুবে গেছে।

রুদ্রপুর গ্রামের শিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন ৫০ বছর ধরে ইছমতির পানিতে শার্শার বিস্তির্ন অঞ্চল প্লাবিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো মাথা ব্যাথা নেই। নামমাত্র স্লুইজ গেট নির্মান করা হয়েছে। এর কোনো কার্যকারিতা নেই।

এমন কি এর কোনো গেট খালাশিও রাখা ছিলো না। থাকলেও হয়তো কাগজে কলমে ছিলো বাস্তবে আমরা দেখিনি। গ্রামের মেম্বর হবিবর রহমান বলেন, সমস্যা সমাধান করতে হলে এখানে নতুনকরে পাম্প সেটসহ সয়ংক্রীয় স্লুইজ গেট নির্মান করতে হবে।

এলাকাসীরা জানান, শুস্ক মৌসুমে পাম্পদিয়ে পানি ইছামতিতে ফেলতে হবে। এবং বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি কোনক্রমেই বিলে ঢুকতে না পারে তার নিশ্চয়তা করতে পারলে আগের মত বারো মাস ফসল হবে।