পানির গুণগত মান নিশ্চিতকরণে দেশের ৫২টি জেলার ন্যায় চাঁদপুরেও তৈরি হচ্ছে পরীক্ষাগার

মোহাম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ পানির অপর নাম জীবন। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় নিরাপদ পানি ব্যবহার জরুরি। কিন্তু শিল্পায়নের ফলে সারাদেশেরই ভূপৃষ্ঠের পানি জৈব রাসায়নিক দ্রব্যে দূষিত হচ্ছে। পাশাপাশি পানিতে নতুন করে ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ডের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ওই লক্ষ্যে দেশের ৫২ জেলায় পানির গুণগত মান পরীক্ষার জন্য স্থাপন করা হবে পানি পরীক্ষাগার।

তারই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে পানি পরীক্ষাগারে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আশাকরা যাচ্ছে দ্রুততম সময়ে স্থাপনাটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। এ বিষয়ে চাঁদপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ জানান, দেশের ৫২ জেলায় পানি বিশুদ্ধকরন পরক্ষিাগার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চাঁদপুর জেলার পরীক্ষাগারের নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। আশাকরা যাচ্ছে দ্রুততম সময়ে তা সম্পন্ন হবে।

আগামী ২০২২ সালের মধ্যে ৫২ জেলার মানুষ পানের জন্য সুপেয় বিশুদ্ধ পানি পাবে। সেজন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ১৭৮ কোটি ৫৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘পানির গুণগতমান পরীক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ নামে একটি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নতুন পরীক্ষাগার স্থাপনের মাধ্যমে পানি পরীক্ষা কার্যক্রম শক্তিশালী ও গতিশীল হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সক্ষমতাও বাড়বে। ফলে সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তাছাড়া পানি পরীক্ষার সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে জনসাধারণ নিরাপদ পানি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারবে এবং পানিবাহিত নানাবিধ রোগ হতে মুক্ত থাকতে পারবে। তাতে জনগণের নাগরিক সুবিধা বাড়বে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দেশে পানির গুণগত মান পরীক্ষার জন্য ১২টি পানি পরীক্ষাগার রয়েছে। কিন্তু সারাদেশের সব জেলার পানি পরীক্ষার জন্য ওই পরীক্ষাগারগুলো যথেষ্ট নয়। বরং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিটি জেলার বিভিন্ন উৎসের পানির গুণগত মান পরীক্ষা করা জরুরি। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতেই পানির গুণগত মান পরীক্ষায় বাকি ৫২টি জেলায় পানি পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ময়মনসিংহ, রাজশাহী, কুমিল্লা, খুলনা, ঝিনাইদহ, রংপুর, বগুড়া, সিলেট, টঙ্গী, বরিশাল, নোয়াখালী ও ঢাকাসহ মোট ১২টি পানি পরীক্ষাগার রয়েছে। সব পানি পরীক্ষাগার থেকে অনেক জেলার দূরত্ব বেশি হওয়ায় পানি পরীক্ষার জন্য নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ ও পরিবহনে জটিলতা দেখা দেয়। ফলে অনেক পানি পরীক্ষার সঠিক ফল পাওয়া যায় না।

এদিকে দেশে নতুন যেসব জেলায় পানি পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে। ৮টি বিভাগের ৫২টি জেলার মধ্যে ঢাকা বিভাগের জেলাগুলো হলো নরসিংদী, শরিয়তপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর। চট্টগ্রাম বিভাগের জেলার মধ্যে রয়েছে- ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও খাগড়াছড়ি। রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলো হলো- সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ। তাছাড়া খুলনা বিভাগে যশোর, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মাগুরা ও বাগেরহাট। ময়মনসিংহ বিভাগের শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোণা জেলা। বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, ভোলা ও বরগুনা; সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এবং রংপুর বিভাগের পঞ্চগড়, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও ও কুড়িগ্রাম জেলা এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।