পাওনা টাকার জন্য চাপ, যুবকের ‘আত্মহত্যা’

বাবুল আহমেদ, সাভার উপজেলা প্রতিনিধি: সাভারে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য আটকে রেখে চাপ প্রয়োগ করায় এক যুবক ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার বিকেলে হেমায়েতপুরের নতুনপাড়া এলাকা থেকে ওই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাজহারুল ইসলাম (২২) নামে ওই যুবক তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ঋষিপাড়া এলাকায় স্ত্র্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি স্থানীয় আলেয়া গার্মেন্টসের শ্রমিক ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ঠাঁকুরগাও জেলার হরিহরপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামে। আটক দুই জন হলেন ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ সেলিম ও তার স্ত্রী নবিতা খাতুন।

তারা উভয়ই হেমায়েতপুরের নতুনপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় ব্যাচেলরদের রান্না করে খাওয়ানোর কাজ করতেন। মাজহারুলের পরিবারের বরাত দিয়ে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন সিকদার জানান, মাজহারুলের বোন নতুনপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। একই বাসায় ভাড়া থাকেন সেলিম ও তার স্ত্রী নবিতা খাতুন। তারা ওই বাসায় ব্যাচেলরদের রান্না করে খাওয়ানোর কাজ করেন।

মাজহারুলের বোনকেও মাসিক চুক্তিতে রান্না করে খাওয়াতেন ওই দম্পতি। কিন্তু চার মাস আগে খাবারের বকেয়া ১৩ হাজার টাকা না দিয়েই বাসা ছেড়ে চলে যান মাজহারুলের বোন। এই টাকা পরিশোধের জন্য অনেক দিন ধরেই মাজহারুলকে তাগাদা দিয়ে আসছিলেন সেলিম দম্পতি। সোমবার দুপুরে মাজহারুল কারখানায় গেলে সেলিম তাকে হেমায়েতপুর নতুনপাড়া এলাকায় তার বাসায় ডেকে আনেন।

পরে টাকা আদায়ের জন্য তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। কিছু সময় পরে কক্ষের দরজা ভিতর থেকে আটক দেন মাজহারুল। এ সময় কক্ষের আড়ার সাথে দড়ি বেঁধে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন মাজহারুল। এদিকে অনেকক্ষণ সাড়া না পেয়ে সেলিম দম্পতি মাজহারুলকে ডাকাডাকি শুরু করেন। কিন্তু অনেক ডাকাডাকির পরও সাড়া দিচ্ছিলেন না তিনি। পরে মাজহারুলকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয়া হয়।

দুপুরে পুলিশ দরজা ভেঙ্গে মাজহারুলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ নিউজবাংলাকে জানান, মাজহারুলের বোনের কাছে টাকা পেতেন সেলিম। কিন্তু অনেক দিন ধরে পাওনা টাকা না দিয়ে সেলিমকে ঘোরানো হচ্ছিলো।

এই জন্য মাজহারুল কারখানায় গেলে তাকে নিজ বাড়িতে ধরে নিয়ে যান পাওনাদার সেলিম। পরে তাকে কক্ষে আটকে রেখে তার স্ত্রীকে টাকা আনার জন্য ফোন দেয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে মাজহারুল ভেতর থেকে কক্ষের দরজা আটকে দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি আরো জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠনো হয়েছে। আটক করা হয়েছে সেলিম ও তার স্ত্রীকে। নিহতের পরিবার চাইলে তাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করা হবে।