পশুরহাটে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে বড় চ্যালেঞ্জ, মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দিন

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, পবিত্র ঈদ-উল-আজহায় মুসলমানদের দুটি মূল ওয়াজিব হলো ঈদের নামাজ ও আল্লাহর উদ্দেশ্যে সামর্থবানদের পশু কোরবানি দেয়া। এবার করোনা মহামারীর ছোবলের মধ্যেই কোরবানি আসায় তা ধর্মীয় গাম্ভীর্য ও আনুষ্ঠানিকতা রক্ষায় সীমিত ও নিয়ন্ত্রণমূলক বিধি-ব্যবস্থা মেনে পালিত হবে। এবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নগরীতে কোরবানির পশুর হাটগুলো সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা দূরীভূত করা।

তাই নগরীতে পশুর হাটগুলোতে লোকসমাগম নিয়ন্ত্রণসহ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট স্থানে পশু বাঁধার খুঁটি, ছাউনি, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও জীবাণুনাশক সামগ্রী বিক্রির জন্য নির্দিষ্ট দোকান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকদের ক্যাম্প ছাড়া আর কোন ধরনের দোকানপাট বা স্থাপনা থাকবে না। এছাড়াও কোন বয়স্ক ব্যক্তি এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু-কিশোর পশুর হাটে আসতে পারবেন না এবং পশু ক্রেতার সাথে সর্বোচ্চ দুই জনের বেশি যাওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, পশুর হাটগুলোতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে যা যা করণীয় সেগুলো যথাযথভাবে পালন করবে।

টাইগারপাস্থ চসিকের নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে পশুরহাট ইজারাদারদের সাথে বৈঠকে সিটি মেয়র এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, পশুর হাটে জীবাণুনাশক এবং হ্যান্ডস্যানিটাইজারের সার্বক্ষণিক ব্যবস্থা থাকবে। এর বাইরে হাট ইজারাদারগণ বিক্রেতা ও ক্রেতাদের হাত ধোয়ার পানি, সাবান ও টিস্যু পেপার সরবরাহ ও শরীরের তাপমাত্র মাপার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ক্রেতা-বিক্রেতা প্রত্যেককেই অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিতসহ হাটে প্রবেশমুখে ও হাটের ভিতরে মাক্স ব্যবহার করুন, হাত ধৌত করুন ও সামাজিক দূরত্ব বজিয়ে রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন লেখা ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙ্গানোর ব্যবস্থা করবেন। চসিকের পক্ষ থেকে পশুর রোগ-বালাই চিহ্নিত করার জন্য হাটগুলোতে চিকিৎসক থাকবেন এবং পশুর গোসল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় পানির ব্যবস্থা, খাবার ও আবর্জনার জন্য নির্ধারিত স্থান থাকবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কাউন্সিলর এ এফ এম কবির মানিক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, এস্টেট অফিসার এখলাস উদ্দিন আহমদ, ইজারাদারের পক্ষে ছিলেন, মোহাম্মদ সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ মামুন, মোহাম্মদ ওয়াহিদুল আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ আজাদ, নজরুল ইসলাম মিন্টু, মোহাম্মদ জামসেদ, মোহাম্মদ ফারুক বাবুর্চি, আবদুর রশিদ লোকমান প্রমখ। সভার শুরুতেই জনসচেতনা ও পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রামান্য চিত্র উপস্থাপন করেন চুয়েটের ছাত্রী তাসফিয়া তাজনিম ও অর্ক।