পশুপাখির জন্য খাবার বরাদ্দের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র কাছে উদ্ভাবক মিজানের খোলা চিঠি

জসিম উদ্দিন, বেনাপোল প্রতিনিধি: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি পশু পাখি প্রেমী একজন মহান প্রধানমন্ত্রী। যাহার প্রমাণ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা দেখেছি। আজ আপনার কাছে একটি দরখাস্ত লিখছি যেটা আমার জন্য নয়। বোবা প্রানী পশুপাখির জন্য। যাদের এই কঠিন ক্রান্তিকালে মানুষের পাশাপাশি খাবারের বড় অভাব।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি অতি সাধারণ একজন মটর ম্যাকানিক মিজানুর রহমান মিজান। পাশাপাশি একজন তরুণ ক্ষুদে উদ্ভাবক হিসাবে আমার পরিচিতিটা দেশ সেরা হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছে। সব থেকে আনন্দের বিষয় হলো উদ্ভাবনা আর পরিবেশের উপরে কর্মদক্ষতার কারণে আপনার হাত থেকেই গোল্ডেন মেডেল পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।

করোনা ভাইরাস সংক্রমনের পর থেকে আমার যশোরের শার্শা উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুর আর পশুপাখিদের জন্য এতোদিন খাবার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে আসছিলাম। এখন আর আমি তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছিনা। কারণ আমি আর্থিক ভাবে খুবই বিপদে আছি।

এখন তাদের খাবার যোগাতে হিমশিম খাচ্ছি। আমার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে যা ইনকাম হতো তাই দিয়ে তাদের খাবার ব্যবস্থা করতাম। করোনা ভাইরাস প্রার্দুভাবে লকডাউন এর কারনে ইনকাম বন্ধ থাকায় আমি নিজেই চলতে পারছি না। এমন অবস্থায় তাদের ঠিকমত খেতে দিতে পারছি না।

করোনার দাপটে সারাদেশের মতো যশোরের শার্শা উপজেলার মানুষের জনজীবনের পাশাপাশি প্রাণিকূলের অবস্থাও শোচনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের কর্মহীনতায় অনেক সাধারণ মানুষের আয়- রোজগার বন্ধ। বন্ধ রয়েছে হোটেলসহ বিভিন্ন খাবারের দোকান। যে কারণে চরম খাদ্য সংকটে রয়েছে পশু-প্রাণিগুলোও। যাদের মধ্যে বেশি কষ্টে আছে রাস্তার বে-ওয়ারিশ কুকুরগুলো।

অন্যান্য প্রাণী মানুষের সান্নিধ্যে থাকায় কিছুটা হলেও ক্ষুধা নিবারণের সুযোগ পায়। কিন্তু বে-ওয়ারিশ কুকুরগুলোকে কেউ খাবার দেয় না।অফিস আদালত হোটেল রেস্তোরাঁ, দোকানপাটসহ অন্যান্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কোথাও খাবার তৈরি বা খাবার নষ্ট হচ্ছে না। ফলে কুকুরেরও খাবারের সংস্থান হচ্ছে না।

করোনার প্রভাবের কারণে চরম খাদ্য সংকটে এসব কুকুরের বেঁচে থাকা দূরহ হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় বেওয়ারিশ কুকুরগুলো বিভিন্ন এলাকাসহ আশে পাশের এলাকার ক্ষুধার্ত কুকুরগুলোকে রান্না করা খাবার খাওয়ানো একান্ত প্রয়োজন। খাবার খেয়ে নতুন করে জীবন ফিরে পাবে কুকুরগুলো।

যতদিন করোনার প্রভাব থাকবে ততদিন আমরা কুকুগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে চায়। সে কারনে আপনার কাছে আমার একান্ত আরজ আপনার পশুর প্রতি যে মমতা ভালবাসা দেশবাসী দেখেছে সেই মমতায় এই সব বেওয়ারিশ কুকুর ও পশুপাখিদের বিশেষ ব্যবস্থায় কিভাবে খাবার দেওয়া যায় একটু ভেবে দেখার জন্য আপনার সদয় অবগতি প্রকাশ করছি।

মো: মিজানুর রহমান, তরুন উদ্ভাবক, শার্শা, যশোর। মোবাইল: ০১৭১৮৮৪৮৩৭৭