পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়ে রোগী হোম কোয়ারেন্টাইনে না থাকায় করোনা ভাইরাস বিস্তারের একটি মহা কারণ

মোঃ ইকবাল হোসেন, কালকিনি(মাদারীপুর) প্রতিনিধি: কালকিনি উপজেলার এক ব্যবসায়ীর কয়েকদিন ধরে জ্বর ও কাঁশি। প্রতিবছর এই মৌসুমে তার এই সমস্যা হয়। তাই প্রথমে তিনি নাপা(প্যারাসিট্যামল), হিস্টাসিন সহ কিছু ঔষধ সেবন করেছেন। কিন্তু জ্বর কমছেনা তাই এক চিকিৎসকের পরামর্শে প্রাইভেট ডায়াগণষ্টিক সেন্টারে টেষ্ট করালো এবং সেখানে তার টাইফয়েড ধরা পড়লো।

তিনি টাইফয়েডের চিকিৎসা নিতে থাকলেন। এভাবে কেটে গেলো ১২দিন। কিন্তু তার অবস্থা অপরিবর্তিত। এবার এই প্রতিবেদকের পরামর্শে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দিলেন এবং নিজেকে ঘর বন্ধি করলেন। দিন যায় রাত যায় এবং দিনের পরে দিন যায় এভাবে সপ্তাহ কেটে যায় নমুনার রিপোর্ট আর আসেনা। অপরদিকে তিনি একটু আগের চেয়ে সুস্থ্যতা বোধ করতে থাকেন। সুস্থ্য মানুষ কি আর ঘরে থাকে। তাই তিনি হাট বাজার করা থেকে নিজের সব কাজ আগের নিয়মেই করতে লাগলেন।

কিন্তু হঠাৎ তার দেয়া নমুনার রিপোর্ট আসলো। বিধি বাম তার রিপোর্ট পজেটিভ। রোগী জানার আগে সাংবাদিক হিসেবে খবর এই প্রতিবেদক আগে পেয়ে তাকে ফোন করলো। খবর শুনে সেই ব্যক্তিও বিরক্ত ও অনুতপ্ত হলো। কেননা যখন সে সুস্থ্য তখন তার কোভিড-১৯ পজেটিভ হবে এটা তখন সে মানতে পারছিলোনা। ফলাফল যখন তিনি অসুস্থ্য তখন রিপোর্ট হিমাগারে বন্ধি। আর এখন যখন তিনি সুস্থ্য তখন তিনি ঘর বন্ধি।

এমন ঘটনা এখন অহরহ। আর অনেকের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেহেতু ভাল তাই তাদের লক্ষণ কমও দেখা দিতে পারে। কিন্তু তাদের থেকে যাদের শরীরে ছড়াবে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলেই বিদায় পৃথিবী। কিন্তু কারণ সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকা লোকটি। তাই যাদের লক্ষণ সামান্য তাদেরও অপরকে বাঁচাতে নমুনা দিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে কিন্তু ঘটছে তার উল্টো। ফলাফল দিনকে দিন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি।

এ ব্যাপারে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আল বিধান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন যারা নমুনা দিতে আসে তাদের আমরা বাড়িতে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেই । কিন্তু রিপোর্ট আসার আগে তারা এই নিয়ম মানেননা। ফলে পজেটিভ রোগীরা নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আশার আগেই ঘুরে ঘুরে অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর নমুনা পরীক্ষা এত পরিমান হয় যেখানে সকলকে প্রশাসনিক নজরদারিতে রাখাও যায়না। তবে এর থেকে বাঁচার উপায় একটাই তা হলো কেউ কেউ নয় সকলেই সচেতন হতে হবে। তবে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমানো সম্ভব।