পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখতে ১০ টি জরুরি কাজ করুন

পরিপাকতন্ত্র শারীরিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যবস্তু শোষণের উপযোগী কিংবা হজম হয়ে বা ভেঙে ক্ষুদ্র সাধারণ কণা তৈরি করে শরীরের সর্বত্র খাদ্যের গুনাগুন পৌছে দেয় ।

উৎসবের নিমন্ত্রণে নানা রকমের উপাদেয় খাবার খেতে তো ভালোই লাগে। কিন্তু হজম ঠিকমতো না হলেই মন-মেজাজ খারাপ হয়। বেশি ভারি ও তেল-মসলাযুক্ত খাবার খেয়ে শুরু হতে পারে পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, ঢেকুর ওঠা, পায়ুপথে বাতাস নির্গমন বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা। এগুলোর বেশিরভাগই হজমে গণ্ডগোলের কারণে হয়ে থাকে।

তাই এ পরিপাকতন্ত্র সুস্থ রাখতে ১০ টি জরুরি কাজ করুন

 

১. খাবার চিবিয়ে খান

খাবার অনেকটা সময় নিয়ে খেতে বিরক্ত লাগলেও ,সঠিক হজমের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ | খাবার খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত সময় নিন, খাবার গিলে ফেলার আগে ২০-৩০ বার চিবান ।

২. শাক সবজি ও আশযুক্ত খাবার খান

আশযুক্ত খাবার খাওয়া সাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী, পাচ্য কিংবা অপাচ্য – আপনার খাবার গুলো কে অন্ত্রের মধ্য দিয়ে চলতে সাহায্য করে । এছাড়াও তেলযুক্ত খাবার যা পরিপাক হতে অনেক সময় নেয় আশযুক্ত খাবার এর জন্য তা দ্রুত পরিপাক হয়।

৩.বেশি পানি পান করে

অনেক বেশি পানি পান করুন , এটি আপনার দেহের অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে । পাকস্থলীতে থাকা দ্রবনীয় খাবার এবং তেলযুক্ত খাবার খাদ্যনালীর মধ্য দিয়ে যেতে সাহায্যে করে।

৪. ব্যায়াম

ব্যায়াম (হাটা কিংবা দৌড়ানো,ইয়োগা )আপনার পাকস্থলীর খাদ্য খুব সহজে পরিপাক করতে সাহায্য করে । এছাড়াও ব্যায়াম দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত পরিবহনে সাহায্য করে ।

৫. দুশ্চিন্তা কমান

পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার আরেকটি কারন দুশ্চিন্তা । কারন মস্তিষ্ক এবং পরিপাকতন্ত্র পরস্পর সংযুক্ত । তাই দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকতে ব্যায়াম করুন এবং পর্যাপ্ত পরিমান ঘুমানোর চেষ্টা করুন ।

৬. গরম গরম খাবার খান

ঠান্ডা খাবারের থেকে গরম খাবার খেলে পরিপাকতন্ত্রের অগ্নাশয় সঠিক ভাবে কাজ করে । গরম গরম খাবার খেলে খাবার পরিপাকে কম সময় লাগে । তাই দৈনিক খাবারের তালিকায় স্যুপ, সবজি রাখতে পারেন।

৭. ধুমপান থেকে বিরত থাকুন

ধুমপান পরিপাকতন্ত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে ,কারণ এটি খাদ্যনালীর শেষে ভাল্বকে দুর্বল করে এবং এটি গ্যাসোইনটেস্টাইনাল ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে ,গ্যাস্ট্রিক, আলসার, ক্যান্সার সহ বিভিন্ন ব্যাধি বাসা বাধতে পারে দেহে।

৮. অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক নয়

অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে ভালো-খারাপ সব ধরনের ব্যাকটেরিয়া দূর হয়। যা-ই হোক, অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে খারাপের সঙ্গে ভালো ব্যাকটেরিয়া দূর হওয়ার কারণে কিছু সুবিধাভোগী এবং অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া পেটে সংক্রমণ করতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া
অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয়।