পরিচ্ছন্নতাকর্মীর উপর হামলার ঘটনায় বরিশালে তোলপাড় চলছে

প্রিন্স তালুকদার, বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশাল নগরীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে মারধর করার ঘটনায় তোলপাড় চলছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুমনকে ও জালুকে মারধরের ঘটনায় নগরীর বটতলা ও আমিরকুটির এলাকায় গভীর রাত পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করেছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুমন নগরীর বটতলা এলাকায় আলমগীর ছাত্রাবাসের সামনে থেকে ময়লা পরিস্কার করত। অপরদিকে অপর পরিচ্ছন্নতাকর্মী জালু নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডস্থ আমিরকুটির এলাকায় বিভিন্ন বাসা থেকে ময়লা নিয়ে যেত। কাকতলীয়ভাবে দুটি ঘটনাই নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডে। একই ওয়ার্ডে এই দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে মারধর করায় পাল্টা প্রতিরোধ ও দফায় দফায় সংঘাত সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে উত্তেজনা প্রকট আকার ধারন করলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত হোসেন লাবু ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকাল ৫ টার দিকে বিসিসি’র পরিচ্ছন্নতা কর্মী জালু আমিরকুটির এলাকায় সাবেক ব্যবিলনের কাপড় ব্যবসায়ী মজনুর বাসায় ময়লা আনতে গেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিচ্ছন্নতাকর্মী জালুকে মারধর করে। মারধরের একপর্যায়ে মজনুর বড় ছেলে রেদওয়ান কাওছার জালুকে মাথায় ও মুখে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই পরিচ্ছন্নতা কর্মী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বিষয়টি এলাকাবাসি জানতে পারলে জালুকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসি মজনু’র বাড়ি ঘেরাও করলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এদিকে রাত ৯টার দিকে স্থানীয় কাউন্সিলর লিয়াকত হোসেন লাবলু ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী জালু’র চিকিৎসা বাবদ ত্রিশ হাজার টাকা মজনুর কাছ থেকে আদায় করা হয়।

ঘটনার ব্যাপারে ভেটেরেনারি সার্জন, পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ডা: মো: রবিউল ইসলাম বলেন, নগরীর ১৫ নং ওয়ার্ডের আমিরকুটির এলাকায় জালু নামে আমাদের এক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার বিষয় জানতে পারার পরপরই আমি সেখানে উপস্থিত হই এবং জানতে পারি, আমিকুটির এলাকার বাসিন্দা মজনু ও তার ছেলে রেদওয়ান কাওছার জালুকে বেধরক পিটিয়ে আহত করে। পরে এলাকাবাসির সহযোগিতায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী জালুকে উদ্ধার করে মেডিকেলে পাঠাই। বিষয়টি মেয়র মহোদয় সহ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হয়েছে। রাত ১২ টায় কোতয়ালী মডেল থানায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে বেধরক মারধর করা হামলাকারীদের নামে লিখিত অভিযোগ দাখিল করলে৷ এ বিষয়ে মামলা দায়ের হবে বলেও কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ থেকে জানানো হয়েছে তাদের।পরবর্তীতে তারই সিদ্ধান্ত নিবেন। এ ব্যাপারে ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত হোসেন লাবলু বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গুরুতর আহত পরিচ্ছন্নতা কর্মীর চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহন করেন। এদিকে অপর এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুমনকে মারধরের ঘটনায় স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় দোকানী সাবেক ছাত্রদল নেতা মনোয়ার হোসাইন নয়ন পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে মারধর করায় পাল্টা প্রতিরোধ ও দফায় দফায় সংঘাত সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে উত্তেজনা প্রকট আকার ধারন করলে সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষা করে হামলাকারী নয়ন। রাত সাড়ে ১১টার এই ঘটনায় নয়নসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে সিটি কর্পোরেশন মামলার প্রস্তুতি নিয়েছে।

এদিকে ঘটনার বিবরন দিয়ে এলাকাবাসি জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মী সুমন ও কাওসারসহ তিনজন নগরীর ১৫নং ওয়ার্ড আলমগীর ছাত্রবাসের সামনে থেকে ময়লা আনতে যায়। তখন তারা দেখতে পায় স্থানীয় সেচ্ছাসেবকদলের নেতা ও ব্যবসায়ী মনোয়ার হোসেন নয়ন সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনের ভিতরে ময়লা ফেলে। এ সময় পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুমন ড্রেনে ময়লা ফেলতে নিষেধ করলে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরিচ্ছন্নকর্মী সুমনকে এলোপাতাড়ি পেটায়।

খবর পেয়ে সুমন তার সাথে থাকা কাওসারসহ তিনজন পরিচ্ছন্নকর্মী নয়নের দোকানের সামনে অবস্থান করলে দ্বিতীয় দফায় নয়ন ও তার দলীয় লোকজন মিলে তাদেরকে বেধরক মারধর করে। এতে সুমন ও কাওসারসহ পরিচ্ছন্নকর্মী গুরুতর আহত হয়। এদিকে পরিচ্ছন্নকর্মীদের পিটিয়ে আহত করার খবরে বিসিসির অন্যান্য পরিচ্ছন্নকর্মীসহ কর্মচারীরা নগরীর ১৫নং ওয়ার্ডে সাংর্ঘষিক রুপে অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত হোসেন লাবলু ভূমিকা রেখে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশের একটি টিম গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এ ব্যাপারে বিসিসির ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিয়াকত ইসলাম লাবলু ঘটনার বিষয় টি শোনা মাত্র তিনি এসে আহত পরিচ্ছন্নতা কর্মীর চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং বিক্ষিপ্ত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সান্ত করে। তিনি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত সেচ্ছাসেবকদল নেতা মনোয়ার হোসাইন নয়নের দোকানে তালা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সে দোকান খুলতে পারবেন না।