পদোন্নতি পেয়ে গাজীপুর জেলার এডিসি হলেন দোহারের ইউএনও

কাজী জোবায়ের আহমেদ, দোহার প্রতিনিধিঃ  গাজীপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন ঢাকার দোহার উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা। বৃহস্পতিবার (জুন ৪) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন। ২০১৮ সালের ৫ই মার্চ দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন আফরোজা আক্তার রিবা।
তিনিই ছিলেন দোহারের প্রথম নারী কর্মকর্তা । তার সৎভাব ও কর্ম দক্ষতায় পাল্টে গেছে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সার্বিক চিত্র। উপজেলার প্রতিটি দফতরের কর্মকান্ডে ফিরে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। তার উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন মৎস্য অভিযানে,দোহারে যোগদান করার পর ইলিশ রক্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীতে দিন রাত অভিযান পরিচালনা করেন তিনি।
এ ছাড়া দোহারের বিভিন্ন বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে রাখতে তার অভিযান ছিল ধারাবাহিক। দোহারে তার ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে শেখ রাসেল প্রাথমিক বিদ্যালয়। তৎকালীন ইউএনও কে,এম আল আমিন বিদ্যালয়টি প্রতিষ্টা করার পর বদলি জনিত কারনে শেষ করে যেতে পারেননি বিদ্যায়য়ের অবকাঠামো নির্মাণ। এ সময় দোহারে উইএনও হিসেবে যোগদান করার পর বিদ্যালয়টির অবকাঠামো নির্মাণ করে হাল ধরেন আফরোজা আক্তার রিবা।
হতদরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাড়িঁয়ে সকল প্রকার সেবা প্রদান করেন তিনি। বিভিন্ন কর্মদক্ষতার কারনে উপজেলা পর্যায়ে ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ইউএনও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। আফরোজা আক্তার রিবা চ্যানেল এস কে বলেন, করোনার এই সময়ে দোহার উপজেলার জন্য প্রচুর কাজ করেছি। নিজের জীবনের পরোয়া করিনি। এই পদোন্নতি আমাকে আরো বেশি কাজ করার সুযোগ করে দিল।
আমি যেন এই দেশের কল্যানে দেশের মানুষের জন্য সব সময় কাজ করে যেতে পারি । এ সময় সংশ্লিষ্ট সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। উল্লেখ্য, ইউএনও আফরোজা আক্তার রিবা’র জন্ম নরসিংদী জেলার মনোহরদী থানার গোতাশিয়া গ্রামে। তার বাবা মোঃ শহিদ উল্লাহ ভুঁইয়া ও মাতা লুৎফুন্নাহার।
তিনি গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবন শুরু করেন। শিক্ষা জীবনে তিনি নরসিংদীর হাড়িসাংগার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে এসএসসি, রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ থেকে ২০০২ সালে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। পড়াশোনা শেষ করে ২৯তম বিসিএস-এর মাধ্যমে সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন।