পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাত করার দায়ে বরখাস্তকৃত ইউপি সদস্য

সঞ্জয় ব্যানার্জী, দশমিনা-বাউফল প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাত করার দায়ে বরখাস্তকৃত ইউপি সদস্য মোসাঃ লিপি বেগমের বিরুদ্ধে জাল দলিল করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। সদ্য বরখাস্তকৃত ইউপি সদস্য লিপি বেগম কেশবপুর ইউনিয়ন মহিলা লীগের সভাপতি। আরও পড়তে ক্লিক করুন- বাউফলে চাল আত্মসাতকারী ইউনিয়ন মহিলা লীগ সভাপতি গ্রেফতার ভুক্তভূগী পরিবারটি প্রধানমন্ত্রী বরাবর অভিযোগ দেয়ায় তাদেরকে এলাকা থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানান জমির মালিক। তিনি জানান, এতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের বাজেমহল গ্রামের অনিমা রানীর স্বামী সুভাষ চন্দ্র শীল। সুভাষ চন্দ্র শীল সহজ সরল লোক। তাদের সংসারে ১ ছেলে ও ২ মেয়ে সন্তান রয়েছে। সংসারে অভাব অনটন লেগেই থাকতো। স্থানীয় কবির মুন্সির স্ত্রী লিপি বেগম। লিপি বেগমের সুদের কারবার থাকায় সংসার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রায়ই তার কাছ থেকে সুদে টাকা নিতো । টাকা আনার সময় লিপি বেগম সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর নিতো। টাকা পরিশোধ করার পরেও কখনও ওই সাদা স্টাম্প ফেরত দিতো না। সর্বশেষ অনিমা রানীর স্বামী সুভাষ শীল স্থানীয় লিপি বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা সুদে নেন। সুদে-আসলে তিনি ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু ওই মহিলা মেম্বার লিপি বেগম তার কাছে আরও টাকা দাবি করেন। তিনি দাবিকৃত টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন।
এতে মহিলা মেম্বারের স্বামী কবীর হোসেন ভয়ভীতি দেখিয়ে ১৫ কড়া (৩০ শতাংশ) জমি লিখে নেন বলে সুভাষ চন্দ্র শীলের অভিযোগ। সুভাষ বলেন, এতেও ক্ষ্যান্ত হননি। ওই ব্ল্যাংক স্টাম্প দিয়ে চারটি (৫১৭২, ৪১৯৪, ৭৮৭০, ৪১৫৯ নং) ভুয়া দলিল তৈরি করে তাকে ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদের অপতৎপরতা শুরু করেন। স্থানীয় ভাবে কোন প্রতিকার না পেয়ে সুভাষ চন্দ্র শীলের স্ত্রী অনিমা রানী প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেন। তার প্রেক্ষিতে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাকে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। পরে ন্যায় বিচারের জন্য পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অনিমা রানী বাদী হয়ে মামলা করেন। আদালোত মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পটুয়াখালী পুলিশ বুরো আব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কে নির্দেশ দেন। এ ব্যাপারে জানার জন্য সদ্য বরখাস্তকৃত ইউপি সদস্য মোসাঃ লিপি বেগমের কাছে ফোন করলে তিনি রিসিভ না করে কেটে দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, মামলাটি তদন্ত চলছে।