পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দু’টি কিডনীই নষ্ট হতদরিদ্র এক গৃহবধুর

আনোয়ার হোসেন আনু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পূর্ব টিয়াখালী গ্রামের প্যাদা বাড়ির হতদরিদ্র মো. কুদ্দুস প্যাদার মেয়ে সনিয়া আক্তার (২২) এর দু’টি কিডনীই নষ্ট হয়ে গেছে। জীবন শুরু হতে না হতেই আলো নিভতে শুরু করেছে সনিয়ার। আর্থিক সংকটে পরিবার চিকিৎসা করাতে পারছে না। সানিয়ার কোল জুড়ে রয়েছে দুই বছরের ফুটফুটে কন্যা সন্তান ইসরাত। দর্জি স্বামী ইমরানের অভাবের সংসারেও সুখের কোন কমতি ছিল না। হঠাৎ তাদের ভাগ্যে নেমে আসে চরম দূর্ভোগ। ধরা পরে সনিয়ার দু’টি কিডনী নষ্ট।

সনিয়া সকলের মত আবার সূস্থ্য জীবনে ফিরে আসতে চায়। চায় স্বামী সংসার নিয়ে সূখের নীড় বাধঁতে। বিত্তবানদের সহযোগিতায় সনিয়া ফিরে পেতে পারে তার নতুন জীবন। কলাপাড়া পৌর শহরের মঙ্গলসুখ রোডের হাফেজ মো. হারুনের ছেলে দর্জি ইমরানের সাথে সুখের ঘর বাধে সনিয়া। তাদের কোল জুড়ে আসে ইসরাত নামের দুই বছরের একটি কন্যা সন্তান। বেশ ভালই চলছিল তাদের সংসার। কিন্তু গত বছর একদিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরে সনিয়া। ঢাকার জাতীয় কিডনী ডিজিজেস ও ইউরোলজী ইনস্টিটিউট’র চিকিৎসক কিডনীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ কাজী শাহনূর আলম পরীক্ষা করে জানান, সনিয়া দীর্ঘ দিন কিডনী রোগে আক্রন্ত। তার দু’টি কিডনীই নষ্ট হয়ে গেছে। তাকে বেঁচে থাকতে হলে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে এক বার ডায়ালেসিস করতে হবে এবং একটি কিডনী প্রতিস্থাপন করলে সে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে।

তিনি আরও জনান, তার মা সাহিদা বেগম মেয়েকে একটি কিডনী দান করতে চান। সনিয়ার দরিদ্র বাবা কুদ্দুস প্যাদা ও স্বামী ইমরান সাংবাদিকদের জানান, তাদের শেষ সম্বল বাড়ির জমি জমা বিক্রি করে সেনিয়ার চিকিৎসার জন্য ব্যয় করে এখন সর্বশান্ত হয়ে গেছেন। তার মায়ের দেয়া কিডনী প্রতিস্থাপন করতে ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। এত বড় অংকের টাকা জোগার করা তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সনিয়াকে বাঁচানোর জন্য সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবান ব্যাক্তিদের এগিয়ে আসার অবেদন জানিয়েছে তার পরিবার।