পটিয়ায় স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করে দাফন; রোহিঙ্গা স্বামীসহ আটক ৩

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যা করে দাফন করেছে স্বামী। পটিয়া উপজেলার আশিয়া ইউয়িনে এ ঘটনা ঘটেছে। গৃহিনী মুর্শিদা বেগম (২০) হত্যার ঘটনা ৫দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। মুর্শিদার স্বামী মো. রফিক তার স্ত্রীকে জিনে মেরে ফেলেছে বলে প্রচার করে।

এ ঘটনায় মুর্শিদার স্বামী মো. রফিক, পার্শ্ববর্তী মো. মফজল ও মফজলের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ আটক করেছে।

জানা গেছে, উপজেলার দড়্গিণ আশিয়া গ্রামের আবদুস ছালামের কন্যার সঙ্গে ১ বছর আগে মো. রফিকের বিয়ে হয়। বর্তমানে রফিকের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। জন্মসূত্রে রফিক রোহিঙ্গা নাগরিক। দীর্ঘদিন ধরে আশিয়া ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মফজল আহমদ মাস্টারের পরিবারে থাকতেন। রফিক মফজল মাস্টারের পালকপুত্র। ১ বছর আগে একই এলাকার মরহুম আবদুস সালামের কন্যার সঙ্গে রফিকের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তাদের সংসারে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়।

এর জের ধরে মুর্শিদাকে গত ২৫ এপ্রিল গলাটিপে হত্যা করে লাশ গোপনে দাফন করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গোপনে দাফন করার খবর পেয়ে মুর্শিদার পরিবার শ্বশুর বাড়িতে যান। পরে মুর্শিদার বিয়ের স্বর্ণ খোঁজ করলে পার্শ্ববর্তী মো. মফজলের স্ত্রী ঘটনা বর্ণনা করেন এবং ঘর থেকে স্বর্ণ বের করে দেন। ৫ দিন পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামীসহ তিনজনকে আটক করেন। এর আগে এলাকার লোকজন স্বামী রফিক, প্রতিবেশি মফজলকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে।

পটিয়া থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানিয়েছেন, স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা করে লাশ দাফন করার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।