পঞ্চগড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

আব্দুর রউফ, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সিরাজুল ইসলামের ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালের ২রা জুন এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কবর জিয়ারত ও মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বোদা বাজার মসজিদে বাদ জোহর মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বোদা উপজেলা আওয়ামীলীগ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়। এডভোকেট সিরাজুল ইসলামের কবর তার পরিবারের সদস্যরা জিয়ারত করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন।

বোদা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান সুজা জানান করোনা ভাইরাসের কারণে অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত ভাবে করা হয়েছে। পারিবারিকভাবে কবর জিয়ারত, বোদা বাজার মসজিদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে আমরা মিলাদ মাহফিলে অংশ নেই। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পঞ্চগড় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, পঞ্চগড়-২ (বোদা দেবীগন্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম কৌঁসুলি এডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজনের বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।

এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। রাজশাহী বিভাগীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ডাকসুর সহ সম্পাদক সহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পঞ্চগড় জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার সাথে তিনি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রথম আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি ৬/ক সেক্টরের বেসামরিক উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি নির্বাচনে জয় লাভ করে কনিষ্ঠতম প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি বাহান্ন সালের ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ এর ছয় দফা, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে দেশ স্বাধীনতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের মহাজন’ পাড়া গ্রামের এক মুসলিম পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। দেশ স্বাধীনের পর এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম পঞ্চগড়-১ ও পঞ্চগড়-২ আসন থেকে ১৯৭৩, ১৯৭৯ ও ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

১৯৯৭ সালে ২রা জুন মৃত্যুকালীন সময় পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে গেছেন। তার নামানুসারে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন, পঞ্চগড় স্টেডিয়াম কে বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়াম, সাবেক পুটিমারি ছিটমহলের নাম পরিবর্তন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম নগর এবং নবাবগঞ্জ বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়।