পঞ্চগড়ে কেঁচো সারে লাভবান কৃষক

আতাউর রহমান, প্রতিনিধি: পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ও সুন্দরদিঘি ইউনিয়নে সর্বত্র দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে এসব কেঁচো সার উৎপাদন করছেন।

অল্প পরিশ্রম ও পুঁজিতে বাড়িতে বসেই কেঁচো সার উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন তারা। এ জাতীয় সার উৎপাদনে কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েই চলছে। উপজেলা কৃষি অফিসও কেঁচো সার উৎপাদনে কৃষদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন। উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, জৈব পদার্থ মাটির প্রাণ বা হৃদপিন্ড।

মাটিকে সুস্থ ও সবল রাখার জন্য জৈব পদার্থের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। এছাড়া মাটিতে ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধি, অতিমাত্রায় রাসায়নিক সারের ব্যবহার, অবিবেচকের মতো বালাইনাশক প্রয়োগ, মাত্রা অতিরিক্ত আগাছা নাশক ও বিভিন্ন কৃত্রিম হরমোন ব্যবহারের ফলে প্রতিনিয়তই মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে এবং জৈব পদার্থের পরিমাণ কমে যাচ্ছে।

মাটির ভারসাম্য রক্ষায় এবং জমিতে ভালো ফলন উৎপাদনের জন্য জৈব সারের কোনো বিকল্প নেই বলেও জানান সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মকর্তারা। এ লক্ষ্যে দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ও সুন্দরদিঘি ইউনিয়নে অনেক কৃষক কৃষি অফিসের সহায়তায় ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) উৎপাদন শুরু করেন।

বর্তমানে দুটি ইউনিয়নের প্রায় ১০০ জনেরও বেশি সংখ্যক কৃষক কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজেরা জমিতে ব্যবহার করছেন এবং অতিরিক্ত সার বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। দন্ডপাল ইউনিয়নের প্রধান পাড়া গ্রামের কৃষক ও কেঁচো সার ক্রয় ও বিক্রেতা হযরত আলী জানান, এই সার উৎপাদন করে নিজের জমিতে ব্যবহার করে যাচ্ছি এবং অতিরিক্ত সার বিক্রি করে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছি।

আমাদের দেখে এখন এই এলাকায় প্রায় ৫০ জন কৃষক কেঁচো সার উৎপাদন করে নিজেদের জমিতে ব্যবহার করছেন আবার বিক্রিও করছেন। খুব কম খরচে এ সার উৎপাদন করা যায় এবং প্রতি কেজি কেঁচো সার ১০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। দন্ডপাল ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কাদের সরকার জানান, কৃষি অফিসের সহযোগীতায় এ এলাকার কৃষকেরা ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন করে একদিকে যেমন নিজেদের জমিতে প্রয়োগ করে সারের চাহিদা মেটাচ্ছেন, অপরদিকে অতিরিক্ত সার বিক্রি করে আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছেন।

তাদেরকে কেঁচো সার উৎপাদনের নিয়ম ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি আমরা। তিনি আরও বলেন, জৈবসারের প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কেঁচো কম্পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই সার জমিতে প্রয়োগের ফলে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। মাটির উর্বরতা ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে। এ ব্যাপারে দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিম ইকবাল বলেন, উপজেলার ২টি ইউনিয়নের সবখানেই ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদনে কৃষদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তারা নিজেরাই কেঁচো সার উৎপাদনে খুব আগ্রহী হচ্ছেন। কেঁচো সার সব ধরনের ফসলেই ব্যবহার করা যায়। মাটির সুস্থতা রক্ষায় এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে সকল কৃষককে কেঁচো সার উৎপাদন ও ব্যবহারের জন্য আহ্বান জানান তিনি।