পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার শিক্ষিকা কর্তৃক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন

মো: আতাউর রহমান, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার তেপুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পাপড়ী আক্তার পান্নার বাসার রুমি আক্তার (৯) নামের শিশু গৃহকর্মীকে অমানুষিক নির্যাতন করেছেন। পরে রুমিকে বাসায় দিয়ে আসলে তার বাবা আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। রুমি উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের পাথরাজ গ্রামের মমিনুলের কন্যা। নির্যাতনের ফলে আহত রুমির বাম হাতের হাড় ভেঙ্গে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুরুতর জখম হয়েছে।
নির্যাতিতা পাপড়ী আক্তার পান্না উপজেলা ময়দানদিঘী ইউনিয়নের পাথরাজ গ্রামের বাসিন্দা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ও ভেলাপুখুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক খলিলুর রহমানের স্ত্রী। হাসপাতালের বিছানায় ছটফট করা রুমি কান্নাজড়িত কন্ঠে জানায়, প্রায় ১ বছর যাবত সে ওই শিক্ষিকার বাসায় কাজ করে। কাজ করালীন প্রায় সময় তাকে মারধর করা হতো। কাজ ভাল হয়নি অজুহাতে শিক্ষিকা তার বাম হাত মচকে দেয়। লাকড়ি দিয়ে পায়ে বেধরক মারপিট করে।
মাথার চুল ধরে এবং চোখে ও বুকে আঘাত করে। নির্যাতনের বিষয়ে রুমির বাবা মমিনুল জানান, আমার স্ত্রী মানষিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় মেয়েটিকে ভালো খাওয়া ও পড়ার আসায় পান্না আপার বাড়ীতে কাজে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার মেয়েকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে, তার হাত ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে এবং মারপিট করা হয়েছে। আমার মেয়েকে হুমকি দিলে ভয়ে প্রথমে আমাদের জানায়নি পরে বিষয়টি জানতে পেরে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্সে নিয়ে আসি। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।
এ বিষয়ে নির্যাতনকারী শিক্ষিকা বা তার স্বামীর সাথে যোগাযোগ করার জন্য ফোন কলে ও বাসায় গিয়ে তাদের কাওকে পাওয়া যায় নাই। বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু হায়দার আশরাফুজ্জামান জানান, শিশু গৃহকর্মী নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।