নড়িয়ায় চাঁদা দাবীতে ইতালী প্রবাসীকে কুপিয়ে জখম

খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর গ্রামে ৫ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে চাঁদাবাজরা শনিবার রাতে ওই গ্রামের ইতালী প্রবাসী দুলাল মাদবরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। আশংকাজনক অবস্থায় দুলাল মাদবরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার রাতে নড়িয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে।

ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর গ্রামের ইতালী প্রবাসী চুন্নু মাদবর ও তার ভাই দুলাল মাদবর বাড়িতে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করছেন। কিছুদিন আগে একই গ্রামের আজিজুল মৃধার ছেলে বাবু মৃধা, আলী হোসেন ছৈয়ালের ছেলে রিফাত, মিজান ছৈয়ালের ছেলে সিজান, দেলু বেপারীর ছেলে সিয়াম বেপারীসহ ১০/১২ জনের একটি উঠতি বয়সের চাঁদাবাজ গ্যাং ইতালী প্রবাসী চুন্নু মাদবরের স্ত্রী খালেদা বেগমের কাছে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

বাড়িতে পাকা ভবন নির্মাণ করছে তাই চাঁদাবাজদের দাবি তাদের ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। খালেদা বেগম বিষয়টি বাড়ির লোকজনকে জানায়। কিছুদিন পূর্বে দুলাল মাদবর ইতালি থেকে বাড়িতে আসে। দুলাল মাদবর বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে তারা ১৩ সেপ্টেম্বর রবিবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে সামাজিক ভাবে মীমাংশা করার জন্য শালিস বৈঠকের আয়োজন করে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয় চাঁদাবাজরা।

শনিবার সন্ধ্যায় তারা দলবল নিয়ে দুলাল মাদবরের উপর হামলা চালায়। কেদারপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি স্থানীয় মুরব্বি ওসমান ফরাজী জানান, কেদারপুর গ্রামে কিছু উঠতি বয়সের চাঁদাবাজ মাস্তানের উৎপাতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। কোন প্রবাসী এই গ্রামে কোন পাকা ভবন নির্মাণ করতে শুরু করলেই চাঁদাবাজরা হামলে পড়ে। তাদের চাঁদা না দিলে চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন উৎপাত শুরু করে। আমরা এর প্রতিকার চাই। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পালিয়ে থাকায় এ বিষয়ে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাফিজুর রহমান স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তদের কাউকে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত চলছে।