নেত্রকোণা পৌর শহরে বিধবা নারীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা, বাদীকে হুমকি

জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোনা পৌরসভার পশ্চিম সাতপাইয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধবা নারী সুফিয়া বেগমকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা চালায় একই এলাকার শেখ শরীফ আল বেলাল ওরফে হাছু বাবু।

এ ঘটনায় মামলা হলেও হাছু বাবুকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলার বাদীকে আসামিরা ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করছে।

এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা পৌরসভার পশ্চিম সাতপাইয়ে মৃত আবদুল হাকিমের ছেলে শেখ শরীফ আল বেলাল ওরফে হাছু বাবু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে। তার কথা না মানায় একই এলাকার মৃত নূরে আলমের ছেলে মাজহারুল ইসলামের দ্বন্ধ্যের সৃষ্টি হয়। বাবুর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। এরই জের ধরে গত সোমবার (২৭এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার বর্শিকুড়া স্কুল মাঠে ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। মাজহারুল ইসলামকে পিটিয়ে আহত করে হাছু বাবু। মাজহারুল ইসলামের মা বাবুর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সে ক্ষিপ্ত হয়। পরে সন্ধ্যায় মাজহারুলের মা সুফিয়া বেগমকে বাড়িতে গিয়ে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় এলাকাবাসী। তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এ ঘটনায় আহত মাজহারুল ইসলাম বাদী হয়ে পরদিন মঙ্গলবার (২৮এপ্রিল) শেখ শরীফ আল বেলাল ওরফে হাছু বাবু ও শাহীনুর আলম উজ্জলকে আসামি করে থানায় মামলা করেন। শাহীনুর আলম উজ্জলকে গ্রেপ্তার করলেও মূল আসামী শেখ শরীফ আল বেলাল ওরফে হাছু বাবুকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদী ও তার লোকজনকে হত্যার হুমকি প্রদান করছে হাছু বাবু।

এ বিষয়ে নেত্রকোণা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোরশেদা খাতুন বলেন, এ ঘটনায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্ঠা অব্যাহত রয়েছে। আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করছি লোকেশন ট্যাগ করার জন্য প্রধান আসামী কোথায় আছে । তাকে আটক করতে পারলে যে অস্ত্র দিয়ে সুফিয়া বেগমকে আঘাত করেছে সেটাও উদ্ধার করতে পারবো।

বিধবা নারী সুফিয়া বেগমকে চুরিকাঘাতে হত্যা চেষ্টার আসামী হাছু বাবুকে দ্রুত আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে এলাকায় শান্তি শৃংখলা ফিরে আসবে এমনটিই প্রত্যাশা ভূক্তভোগীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের।