নেত্রকোণায় রেলওয়ে স্টেশন সমস্যায় জর্জরিত

জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ ঢাকা-মোহনগঞ্জ রুটে নেত্রকোণা পৌর শহরের ১কিলোমিটার এলাকার মধ্যে স্থাপিত হওয়া দুটো রেলস্টেশনের মধ্যে নেত্রকোণা স্টেশনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ছাউনী ভাঙা, প্লাটফরম ছোট, রাতে ছাউনীর বাহিরে কোন বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকা, একটি পাবলিক টয়লেট থাকলেও তা অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকা, বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থার অভাব, অনলাইনে টিকিট কাটার সুযোগ না থাকাসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত এই স্টেশন। যার দরুন মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ যাত্রীরা।

১৯১২-১৯১৮ সালের মধ্যে স্থাপিত হওয়া ঢাকা-মোহনগঞ্জ রুটের ইতিহাসের শতবছর পেরিয়ে গেলেও রেল স্টেশনগুলো খুব একটা আলোর দেখা পায়নি। অতঃপর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ২০১৩ সালে গৌরিপুর-মোহনগঞ্জ ও শ্যামগঞ্জ-জারিয়া রুটে প্রায় ১৮০কোটি টাকা ব্যয়ে রেললাইন সংস্কার করে সরকার, সংস্কার হয় স্টেশনগুলোও। সে বছরই ঢাকা-মোহনগঞ্জ রুটে হাওর এক্সপ্রেস এবং ২০১৬ সালে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস নামীয় দুটো আন্তঃনগর ট্রেন চালু করে। সেই সাথে নিয়মিত চলাচল করে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন কমিউটার ও দুইটি লোকাল ট্রেন।

তাই সময়ের প্রয়োজনে ও জেলা সদরের স্টেশন হওয়ায় যাত্রীদের চাপ সর্বদাই বেশি থাকে নেত্রকোণা স্টেশনে। কিন্তু যথাযথ সংস্কার না হওয়ায় স্টেশনটি বয়স হওয়ার আগেই বার্ধক্যে রুপান্তরিত হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে সারা স্টেশন বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে যায়। তখন দাঁড়িয়ে থাকারও জায়গা থাকে না। ছোট প্লাটফরম থাকার কারনে যাত্রীদের উঠানামায় মারাত্মক সমস্যা পোহাতে হয়। তাছাড়া স্টেশনের টয়লেটটি দিনের বেলায় মাঝে মধ্যে খোলা থাকলেও রাতের বেলায় তা একেবারেই বন্ধ রাখা হয়।

পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা না থাকায় নিরাপত্তার সমস্যাতো আছেই। অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করার সুযোগ না থাকায় অনেক সময় টিকিট নিতে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের, মাঝে মধ্যে পরতে হয় ব্ল্যাকারদের খপ্পরেও। সব মিলিয়ে সমস্যার ভান্ডারে পরিণত হয়েছে এই স্টেশনটি।

এমতাবস্থায় জেলার সদরে অবস্থিত এই স্টেশনটির মানোন্নয়ন এবং যাত্রী দুভোর্গ নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।

এব্যাপারে নেত্রকোণা স্টেশন মাস্টার মোঃ রফি উদ্দিন বলেন, ২০১৮ সালের ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় নেত্রকোণা স্টেশন। এর পরপরই উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। খুব দ্রুতই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম
নেত্রকোণা প্রতিনিধি