নেত্রকোণায় বন্যার পরিস্থিতি উন্নতি হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ বীজতলা

জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে অধিকাংশ বীজতলা। জেলার সবকয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি বন্যা কবলিত বেশিরভাগ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে।

জেলার কলমাকান্দা ও বারহাট্রা এবং খালিয়াজুরি সহ হাওরাঞ্চলের নির্মাঞ্চল ছাড়া বাকি এলাকা থেকে পানি মোটামুটি নেমে গেছে। এখনও নির্মাঞ্চলের ১০ হাজার মানুষ পানি বন্দী রয়েছে।

নেত্রকোণা জেলা প্রশাসন ত্রাণ তৎপরতা জােরদার করেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পোঁছে দেয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন থেকে ৪০০ মেট্রিকটন চাল, নগদ ৮ লাখ টাকা, শিশু খাদ্য কেনার জন্য ২ লাখ ও গােখাদ্য কেনার জন্য ২ লাখ টাকা এবং দুই হাজার শুকনা খাবারের প্যাকট বরাদ্দ দয়া হয়েছে।

তবে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ও পানি দ্রুত নেমে যাওয়ার কারণে প্রতিদিনই জেলার নিম্মাঞ্চলগুলো নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। এতে কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ আরও দ্বিগুন হচ্ছে।

এদিকে নেত্রকোণা সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতী ইউনিয়নের বন্যার পানিতে আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষকেরা।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সদর উপজেলার কেগাতী ইউনিয়নে ১২০ হেক্টরের মতো আমন বীজতলা করা হয়। কিন্তু আগাম বৃষ্টি শুরু হওয়ার কারনে ৯০ হেক্টর বীজতলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হেক্টর বীজতলা বন্যায় ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে ৩০ হেক্টর বীজতলা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর কিছু কিছু আংশিক নষ্ট আছে আবার সম্পূর্ণ নষ্ট আছে। এখন যদি পানি সম্পূর্ণ সরে যায় তাহলে নষ্টের পরিমান কম পাওয়া যাবে। বিশেষ করে আমরা ৪ হেক্টর বীজতলা প্রণোদনা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছি। যদি প্রণোদনাটা আসে তাহলে পানি সম্পূর্ণ সরে গেলে আমারা একটি কমিটির মাধ্যমে এই বীজতলা করে কৃৃষকদের মাঝে সাপ্লাই করে আমরা তাদেরকে সাপোর্ট দিতে পারব।